প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জনউদ্যোগ যশোরের আয়োজনে ২১ মে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘোপ নওয়াপাড়া রোড আইইডি কেন্দ্র কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে ‘‘যশোর শহর যানজট মুক্ত ও নিরাপদ করতে বহুমুখি দড়াটানা সেতু চাই” এই দাবীতে মিডিয়া ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। মিডিয়া ক্যাম্পেইনে সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ যশোরে আহবায়ক প্রকৌশলী নাজির আহমদ। মিডিয়া ক্যাম্পেইনে লিখিত প্রস্তবনা তুলে ধরেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও জনউদ্যোগ সদস্য মাহবুবুর রহমান মজনু। যশোর শহরের দিনদিন যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে যশোরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের পড়ে স্কুল- কলেজগামী শিক্ষার্থী অভিবাবক, অফিসমূখী মানুষ ও রোগীরা চরম বিপাকে পড়ছে। শহরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চলছে রিকশা , বাইক ও থ্রিহুইলার। এগুলো চলছে বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রনহীনভাবে। শহরে শৃঙ্খলাহীন যান চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। যশোর শহরের যানজটের অন্যতম মূল কেন্দ্র দড়াটানা। দিনের সিংহভাগ সময়েই এখানে যানজট লেগে থাকে। দড়াটানার যানজট নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। এমনকি এখন দিনের বেলায় গাড়িখানা রোড, মুজিব সড়ক থেকে এসে গরীব শাহ মাজার ঘুরে দড়াটানা অতিক্রম করতে হয়। এতে যানজট কমেনি, কিন্তু ভোগান্তি বেড়েছে। তাই দড়াটানার যানজট কমাতে পারলে শহরের যানজটের একটি বড় অংশের সমাধান হবে বলে আমরা মনে করছি। এজন্য জনউদ্যোগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাও রয়েছে। দড়াটানা সেতুর উত্তর প্রান্তে তিনটি সড়ক এবং দক্ষিণপ্রান্তে চারটি সড়ক রয়েছে। এই সাতটি সড়কের যোগাযোগ নিশ্চিত করে সেতুটি নির্মাণ করতে হবে। আবার বিআইডব্লিউটিএ’র নীতিমালা মেনে যথাযথ উচ্চতা রক্ষা করে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে দুই প্রান্তে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সেতুটির উপর যানজট নিরসনের অনেক কিছুই নির্ভর করছে। এজন্য এখানে অত্যাধুনিক সেতু নির্মাণ হওয়া দরকার। সেটি বহুতল বিশিষ্ট হতে পারে; একাধিক ফ্লাইওভার সম্বলিতও হতে পারে। মোট কথা ভৈরব নদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের সাত সড়কের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এই যানজট এড়ানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে, তিনটি সুফল পেতে পারে যশোরবাসী। প্রথমত: যানজট নিরসন, দ্বিতীয়ত: ভৈরব নদের গলা চেপে ধরা একটি ব্রিজের অপসারণ এবং তৃতীয়ত: নান্দনিক একটি ব্রিজ যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রের সৌন্দর্য্যই বদলে দিতে পারে। দাড়াটানা ব্রিজের পাশাপাশি গরীব শাহ এলাকা থেকেও আরেকটি সেতু নির্মাণ করা যেতে পারে। তাহলে শহরের পশ্চিম দিক থেকে এসে এই সেতু দিয়েই ভৈরব অতিক্রম করে হাসপাতালসহ ভৈরবের উত্তরদিকে যাওয়া সম্ভব হবে। আবার কাঠের পুলের পাশে একটি সেতু করে পারপারের ব্যবস্থা হলে দড়াটানার দুটি বিকল্প তৈরি সম্ভব হবে। শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানার যানজট এড়াতে এই ভাবনাগুলো আপনাদের মাধ্যমে যশোরবাসীর কাছে উপস্থাপন করছি। পাশাপাশি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মিডিয়া ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন, জনউদ্যোগ সদস্য অ্যাড. আবুল হোসেন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, সৈয়দা মাসুমা বেগম, আইইডি যশোর কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বীথিকা সরকার।