বিল্লাল হোসেন : ডা. হুসাইন শাফায়াত। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক পদে কর্মরত আছেন। তিনি প্রধান কর্মকর্তা হয়েও কর্মস্থলে আসেন সকলের আগে। আবার যান সকলের পরে। তিনি সরকারি এই হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তার সঠিকভাবে তদারকি ও জবাবদিহিতায় বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১০ মার্চ হুসাইন শাফায়াত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঝিনাইদহের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়েকর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চত করতে তিনি সোচ্চার হন। সকাল ৮ টার আগে তিনি কর্মস্থলে হাজির হন। আর কর্মস্থল ত্যাগ করেন বিকেল সাড়ে ৩ টার পর। অফিসের কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যে তিনি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান। চিকিৎসকরা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছেন না সেটাও তিনি দেখভাল করেন। তত্ত্বাবধায়কের উদ্যোগে এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, প্যাথলজি, সিটিস্ক্যান, ইকো, আইসিইউসহ বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক অনিয়ম কমেছে। সব পরীক্ষার টাকা এখন ক্যাশ কাউন্টারের মাধ্যমে জমা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালের রাজস্বও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাত থেকে আয় হয়েছে ৪ কোটির বেশি টাকা। ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে কোন রকম অনিয়ম ছাড়াই টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগ মানুষ গরিব ও মধ্যবিত্ত। তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তাদের সেবা নিশ্চিত করা প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি অফিস সময়ের আগে কর্মস্থলে আসেন অন্যদের সরকারি নির্দেশনায় আগ্রহী করার জন্য। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়মের মধ্যে থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতির ঠাঁই দেয়া হবে না।