বাবুল আক্তার, চৌগাছা : শহরের প্রাণকেন্দ্রে পাইকারি কাঁচাবাজার, যত্রতত্র পার্কিং, আর ফুটপাত দখলের কারনে যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে যশোরের চৌগাছো পৌরসভা। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ রাস্তা সংলগ্ন জায়গায় সপ্তাহে চারদিন পাইকারি কাঁচাবাজার বসে। এই কাঁচাবাজারটি দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের বৃহত্তম একটি পাইকারি কাঁচাবাজর। এই বাজারের কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুলে প্রবেশ করতে। এছাড়া শহরের প্রায় সব সড়কের সামনের একটা বড় অংশ দোকানিদের দখলে। ফুটপাত তো বটেই, শহরের স্বর্ণপট্টি রোড, যশোর বাস স্ট্যান্ড এলাকা, কামিল মাদ্রাসা রোড, ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে ছুটিপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের অনেকাংশ দখল করে নিয়েছেন দোকানিরা। এছাড়া বাড়তি সমস্যা অবৈধ পার্কিং। শহরের অপ্রশস্ত সড়কের দুই পাশ দিয়ে ইজিবাইক ও চার্জার ভ্যান পার্কিংয়ে দখল করে সড়ক। এসব সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাও দুরহ। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এসময় ফুটপাত দখলকারিদের জরিমানা ও সতর্ক করা হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার দখল হয়ে যায় ফুটপাত। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত চৌগাছা শহরের স্বর্ণপট্রির মুখে, প্রেসক্লাব মোড় থেকে কোটচাঁদপুর রোডের উপজেলার সামনে পর্যন্ত, পুড়াপাড়া স্ট্যান্ডের শাহাদৎ পাইলট স্কুলের প্রবেশ রাস্তা সংলগ্ন এলাকা, সনু ডাক্তারের মোড়সহ সকল স্থানেই ইজিবাইক রাখা হয়। একই সাথে এসব এলকায় ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে ফুটপাত দখল করেছে। ইসলামী ব্যাংকের সামেন থেকে কামিল মাদ্রাসার গলি পর্যন্ত ফল বিক্রেতারা সড়কের একটা অংশ দখল করে নিয়েছে। কামিল মাদ্রাসারোডের এক পাশে মুরগি বাজার অন্য পাশে চারা ও খুচরা বীজ বিক্রেতারা ফুটপাত দখলে রেখেছে। এখানে যানজট লেগেই থাকে। চৌগাছার মতো ছোট শহরের মধ্যে চারটি স্থানে রাস্তার উপরে বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। যেখানে বাস কাউন্টার দারা পরিচালিত হয়। রাস্তা দখল করে কিভাবে বাস স্ট্যান্ড চলতে পারে নগরবাসির বুজে আসেনা। দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসি এই কথা বলতে বলতে কøান্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ নিয়ামতুল্লাহ। কয়েকজন সাংবাদিক, সুধী ও উপজেলার বিশিষ্টজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, শহরের প্রাণকেন্দ্রে বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার রেখে যানজট মুক্ত করা সম্ভবনা। চৌগাছা যানজট মুক্ত করতে সবার আগে প্রয়োজন কাঁচাবাজার স্থানন্তর করা। স্কুলের জায়গায় কাঁচাবাজার চলতে পারেনা। জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে যানজট নিরসনে কাচাবাজার স্থানান্তর করা খুবই জরুরী বলে তারা মন্তব্য করেন। যানজটের পেছনে এসব দোকানের ভূমিকা থাকলেও তাঁরা নির্বিকার। অন্য একজন দোকানি বললেন, ‘সবাই বসে, আমরাও বসি। এতে দোষের কী? আমরা যামু কই?’ মোটরসাইকেল নিয়ে যানজটে আটকে ছিলেন জামির হোসেন নামের এক যুবক। তিনি বলেন, ‘শহরে প্রতিদিনই যানজট থাকে। প্রতিদিনই আমাদের এমন ভোগান্তি হয়। কিন্তু প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অসহায় হয়ে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কী?’ শাহাদৎ পাইলট স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, স্কুলের জায়গায় শত শত দোকান বরাদ্ধ দেওয়া রয়েছে। কিন্তু স্কুল এখান থেকে নামমাত্র টাকা পায়। স্কুলের জায়গা দখল মুক্ত এবং স্কুলের প্রবেশ রাস্তাটি প্রশস্ত হওয়া জরুরী। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল বলেন- পৌরসভায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ হচ্ছেনা। পৌরসভার মধ্যে খানাখন্দে ভরা। সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের জন্য পৌরকর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। যানজট মুক্ত করতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করতে হবে। এব্যাপারে চৌগাছার প্রবিণ সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান ও আবু জাফর বলেন- স্কুলের নামে ৩৬ বিঘা জমি রয়েছে। সেই স্কুলের জায়গা দখল করে নাম মাত্র ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করবে অন্যরা। আর সেই স্কুলের ছেলেমেয়েরা ভালোভাবে স্কুলে প্রবেশ করতে পারছেনা। এটা হতে পারেনা। পৌর কতৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনার অভাব। বাজারের দিন শত শত ট্রাক ও ভটভটি বাজারে প্রবেশ করে। একই সাথে পাইকারী ক্রেতারাও শত শত ট্রাক লোড করে যে কারনে চরম যানজট লেগে থাকে। এজন্য চৌগাছা শহরকে যানজটমুক্ত করতে কাঁচাবাজার স্থানন্তর, ফুটপাত দখলমুক্ত, সুশৃঙ্খল পার্কিং এবং শহরের বাইরে নির্ধাতি স্থানে বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করা খুবই জরুরী বলে তারা মন্তব্য করেন তারা। সাবেক প্যানেল মেয়র ও বাসমালিক সমিতির নেতা কামাল আহমেদ বলেন- আমরাও চাইনা যে, শহরের মধ্যে রাস্তার উপরে বাস স্ট্যান্ড থাকুক। আমরা চাই একটি নির্দিষ্ট স্থানে বাস স্ট্যান্ড নির্মান হোক। এ ব্যাপারে আমরা বাসমালিকরা কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু উপজেলা ও পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাসস্ট্যান্ড নির্মানের কোনে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জানতে চাইলে উপজেলার সহকারি কমিশনার ও পৌর প্রশাসক জিএম মুনীব বলেন- ফুটপাত দখলমুক্ত করতে তাঁরা কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছেন। অভিযান শেষে কয়েক দিন পর আবার দখল হয়ে যায়। এগুলো করতে করতে তাঁরাও ক্লান্ত। অচিরেই আবার দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।