চৌগাছা প্রতিনিধি: ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সম্ভাব্য ‘পুশইন’ এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় যশোরের চৌগাছা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার পর চৌগাছা উপজেলার ভারত-সংলগ্ন প্রায় ২৫ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল, নজরদারি এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ঘটনার পর চৌগাছা সীমান্তে সতর্কতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে সম্ভাব্য পুশইনের খবরে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও তারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতা করছেন। চৌগাছা উপজেলার ভারত-সংলগ্ন কুলিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন, দৌলতপুর গ্রামের বজলুর রহমান, আন্দুলিয়া গ্রামের ইব্রাহিম খলিল এবং আড়সিংড়াপুকুরিয়া গ্রামের তবিবর রহমানসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা বিজিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। আন্দুলিয়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শরিফ কবির এবং কুলিয়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার নুরে আলম বলেন, “বর্তমানে চৌগাছা সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।” সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে যেকোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। সে কারণে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ বিজিবিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন, যা আমাদের দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।”