মাগুরা প্রতিনিধি : ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে শুরু হয়েছিল সংসার। ছিল একসঙ্গে জীবন গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই ভালোবাসার সম্পর্কের করুণ পরিণতি হলো মৃত্যু। দাম্পত্য কলহ, অভিমান ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে হার মেনে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ হোসেন (১৮) নামে এক যুবক। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০ টার সময় মাগুরা স্টেডিয়াম পাড়া এই ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় দেড় বছর আগে ঝালকাঠি জেলার মীম খাতুনের সঙ্গে জিহাদের বিয়ে হয়। যে সম্পর্ক ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল, সেই সম্পর্কেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় দূরত্ব ও টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত সেই ভাঙনের বেদনাই কেড়ে নিল এক তরুণের জীবন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জিহাদ স্ত্রীকে ঈদের নামাজের পর নিজে নিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিলেও তা মেনে নেননি তার স্ত্রী। একপর্যায়ে তিনি সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান। জিহাদের কাকি লিমা খাতুন বলেন, আমার ভাতিজা বারবার তার স্ত্রীকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে। ফোন করেছে, বুঝিয়েছে, কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। নিহতের ছোট বোন অপর্ণ বলেন, ভাই অনেকবার ভাবিকে ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু তিনি আসবেন না বলে জানিয়ে দেন। সেই কষ্ট, অভিমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেন জিহাদ। মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। কিন্তু সেই ভিডিও কলই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ সাক্ষী। স্বজনরা জানান, দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে জিহাদ ও মীমের পরিচয় হয়। পরে পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু যে সম্পর্ক একসময় সুখী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই সম্পর্কের ভাঙনই শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের বুক খালি করে দিল। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দাম্পত্য বিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা না করলে তা কখনো কখনো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। জিহাদের মৃত্যু সেই বাস্তবতারই এক মর্মান্তিক প্রতিচ্ছবি। মাগুরা সদর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ভিডিও চালু অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ। ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।