নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চৌগাছা ও মণিরামপুর উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় দুই গৃহবধূ ও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চৌগাছায় অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে এক তরুণী এবং মণিরামপুরে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের খালিদ বিন ওয়ালিদের স্ত্রী শেফা (১৮) ঘটনার সময় বাবার বাড়ি পৌরসভার কুঠিপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রোববার দুপুরে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিমান করে নিজ কক্ষে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, সোমবার সকালে মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা গ্রামের গৃহবধূ যমুনা (৫০) পারিবারিক কলহের জেরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান। তিনি ওই গ্রামের স্বপনের স্ত্রী।
এদিকে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মণিরামপুর ইউনিয়নের জালঝাড়া এলাকার একটি মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোফাজ্জল গাজী (৪০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের মৃত মুনতাজ গাজীর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনায় মণিরামপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।