মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভয়াবহ ফাঁটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। আর এসব দুর্বল বেড়িবাঁধ ইউনিয়নবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে চরম আতঙ্কে আছে এ জনপদের হাজার হাজার মানুষ।
খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, ইউনিয়নটির পাতাখালীর চৌদ্দরশি, বন্যতলা, পাখিমারা, দক্ষিণ পাখিমারা, কামালকাটি, ঝাপা, পশ্চিম পাতাখালি, পূর্ব পাতাখালী, চণ্ডিপুর ও খুটিকাটা এলাকার প্রায় ১৭ কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির ঢেউয়ের চাপে তীব্র ভাঙনে কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে তিন ফুট বাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে। বাঁধে দীর্ঘদিন মাটি ধসে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের উপকুলীয় রক্ষা বাঁধ। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদীতে পানি বাড়লে ওইসব এলাকার বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে এমন আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এসব ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দ্রুত সংস্কার না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করলে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মৎস্যঘের এবং সুপেয় পানির উৎস মারাত্মকভাবে আবারো ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান ও ইয়াসের মত চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের পাকা ব্লক ফেলা ছাড়া বিকল্প নেই। পার্শ্ববর্তী গাবুরা ইউনিয়নের মত মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবির বলেন, আমরা পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে ওইসব জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হবে।