নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে গৃহবধূ ছামিনা আক্তার শাম্মির ঘাতক স্বামী সুজনকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। সুজন হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার হত্যাকারী সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। দুপুরে যশোর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে অভিযুক্ত সুজনকে আদালতে হাজির করা হলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ‘খুনি সুজনের ফাঁসি চাই’, ‘শাম্মি হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহত ছামিনা আক্তার শাম্মির পিতা ও মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্ত সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানান। একই সাথে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় মামলাটি নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, একজন নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। তাই অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানিম হোসেন জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত সুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ভোরে যশোর শহরতলির শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুজন তার স্ত্রী ছামিনা আক্তার শাম্মিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।