ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজের উত্থানের গল্প আরও উজ্জ্বল করলেন সুইজারল্যান্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড জোহান মানজামবি। কানাডার বিপক্ষে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে দলের ২-১ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এই জয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। তবে ম্যাচ হারলেও, গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে কানাডা। ম্যাচের শুরু থেকেই কানাডার তুলনায় বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলেছে সুইজারল্যান্ড। ১১তম মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রিল এম্বোলো, তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফিরতি বল থেকেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি মানজামবি। পরে এম্বোলো আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে কানাডার জনাথন ডেভিড ও সাইল লারিন সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে কানাডার হাই প্রেসিং সুইসদের চাপে ফেলতে শুরু করে। ডিফেন্ডার মানুয়েল আকান্জিকে কেন্দ্র করে বল বের করার চেষ্টা করলেও উত্তর আমেরিকান দলটির শারীরিক শক্তি ও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সুইজারল্যান্ডকে। তবে বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই দেনি জাকারিয়ার লম্বা পাসে লুক দে ফুজেরোলকে শারীরিক লড়াইয়ে হারিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মানজামবি। এরপর পেছনে বাড়ানো বল থেকে সেভিয়া তারকা রুবেন ভার্গাস গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই দ্বিতীয়বার আঘাত হানে সুইজারল্যান্ড। আবারও দেনি জাকারিয়া লম্বা বল থেকে আক্রমণের সূচনা হয়। এম্বোলো বল ধরে রাখার পর শট নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে তা মানজামবির কাছে বাড়িয়ে দেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুইসদের দ্বিতীয় গোলটি করেন ২০ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড। তবে ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। কানাডার সালিবা সুইস ডিফেন্ডার আকাঞ্জিকে কাটিয়ে প্রথম স্পর্শেই বল বাড়িয়ে দেন প্রমিস ডেভিডের উদ্দেশে। দারুন এক গোলে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান ডেভিড। তখনও ম্যাচের প্রায় ১৫ মিনিট বাকি ছিল। কিন্তু সমতায় ফিরতে পারেনি কানাডা। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে সুইসরা। নকআউট পর্বে তারা কোনো তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে কানাডা দ্বিতীয় স্থান নিয়ে শেষ বত্রিশে উঠলেও তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে।