ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : সারাদেশে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে নজর দিচ্ছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে চলছে তোড়জোড়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে দুই ডজনের বেশি নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। শিক্ষাজীবনের সাফল্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার সমন্বয়ে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে তরুণ ছাত্রনেতা মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সের নাম। ছাত্রজীবন থেকেই মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন দায়িত্বশীল ছাত্র সংগঠক ও সম্ভাবনাময় জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব হিসেবে। প্রিন্স বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পর তিনি নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ধর্মীয়-রাজনৈতিক সহিংসতা: দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকর গণতন্ত্রের অন্তরায়’ শীর্ষক শিরোনামে এমফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি কাব-স্কাউটিং, বিতর্ক ও আবৃত্তিচর্চার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পারিবারিকভাবেও রাজনৈতিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে বেড়ে ওঠেন প্রিন্স। তার বাবা মরহুম ডা. মো. শওকত আলী মহেশপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি এবং মা মোসা. তাছলিমা খাতুন দীর্ঘদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত প্রিন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখেন। মেহেরপুর জেলা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীবান্ধব আচরণ ও যোগাযোগ সক্ষমতার মাধ্যমে তিনি ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্রদলের অনেকে তো ছাত্রনেতা প্রিন্সের চলন-বলন-কথন এবং অবয়বের জন্য প্রিন্সকে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষ সংগঠক মরহুম শফিউল বারী বাবু’র প্রতিচ্ছবি হিসেবে জুনিয়র বাবু বলেও বিশেষায়িত করেন অনেক সময়। দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রিন্স সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মুখেও তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি রাজপথের ‘স্লোগান মাস্টার’ হিসেবেও পরিচিত। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের একাধিক প্রকাশনা সম্পাদনা, ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন দল-দীপশিখা প্রকাশ এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় ছাত্রদলের প্রকাশনা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রিন্স। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, অসহায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।