অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে নির্মাণকাজ করার সময় হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে জুয়েল মোল্যা (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নির্মাণাধীন গেটের গাঁথুনির কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মোল্যা উপজেলার সিরাজকাঠি গ্রামের বদিয়ার মোল্যার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী জয়নাল হোসেন জানান, সোমবারই প্রথম দিন ওই নির্মাণকাজে যোগ দেন জুয়েল মোল্যা। বিকালে গেটের ওপর গাঁথুনির কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পাশ দিয়ে যাওয়া হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ওপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী সাগরিকা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সকালে স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে মোবাইল ফোনে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে স্বামীর নিথর দেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, “আমার ১১ বছর বয়সী এক ছেলে ও দেড় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। এখন তাদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।” অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মরিয়ম মুনমুন জানান, বিকেল ৪টার দিকে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর কামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তার ছেলে কাইয়ুম সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।