বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন হৃদরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিনামূল্যের এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন সরবরাহ নেই। গত কয়েক বছর ধরে মূল্যবান ইনজেকশনটি কেনা হচ্ছে না। ফলে দামি এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন কিনতে গিয়ে রোগীদের স্বজনদের হাপিত্যেশ অবস্থা। সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন গরিব রোগীরা। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, বাজেট কম থাকায় এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন কেনা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এই হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে রোগীদের বিনামূল্যে এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন ক্রয় করে । এরপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কেনা হয় ১ হাজার এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন। চাহিদাপত্র দেয়ার সাথেই ওয়ার্ড ইনচার্জকে ইনজেকশনগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে রোগীরা ভর্তি হওয়ার সাথেই বিনামূল্যে একটি এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন পাচ্ছিলেন। গরিব রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি নজর রাখা হতো। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২ থেকে ৪ টি পর্যন্ত ইনজেকশন পেয়েছেন রোগীরা। ফলে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর বাজেটের পরিমাণ কম থাকায় দামি এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন কেনা সম্ভব হয়নি। করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন দুই রোগীর স্বজন জানান, ভর্তির পর ওয়ার্ডে আসলে রোগীর নাভিতে দেয়ার জন্য ইনজেকশন কিনতে স্লিপ দেয়া হয়। বিনামূল্যের ইনজেকশন সাপ্লাই নেই বলে জানানো হয়েছে। প্রতিদিন রোগীর নাভিতে দুইটি করে ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। ৫৭৫ টাকায় প্রতিটি ইনজেকশন কিনতে গিয়ে তারা হাপিয়ে উঠছেন। আরেক ভুক্তভোগী জানান, চিকিৎসক তাদের বলেছেন রোগীর নাভিতে মোট ৭টি ইনজেকশন দিতে হবে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে দামি এই ইনজেকশন কেনা তাদের কাছে কষ্টকর। বিনামূল্যে একটি এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশনও দেয়া হয়নি। অতি কষ্ট করে ৪ টি ইনজেকশন কিনেছেন। আরও তিনটি ইনজেকশন কেনা নিয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছেন। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকারা জানান, সরকারিভাবে এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন সাপ্লাই নেই। ফলে রোগীদের দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য বাইরে থেকে কিনে আনার জন্য স্লিপ করে দেয়া হয়। হাসপাতালের স্টোর কিপার গৌতম কুমার জানান, সরবরাহ না থাকায় রোগীরা বিনামূল্যে এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন পাচ্ছে না। বাজেট কম থাকায় ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এ ইনজেকশন কেনা সম্ভব হয়নি। ২০২৭ সালের বাজেটে এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন কেনা হবে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হৃদরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ইনজেকশন এনোক্সাপ্যারিন। অধিকাংশ রোগীদের চিকিৎসায় এটা ব্যবহার করা হয়। গরিব ও মধ্যবিত্ত রোগীদের কথা বিবেচনা করে বিগত দিনে কয়েক হাজার এনোক্সাপ্যারিন ইনজেকশন কেনা হয়েছিলো। সেগুলো বিনামূল্যে রোগীদের সরবরাহ করা হয়। এতে করে অনেক রোগী উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু পরে বাজেট কম থাকায় এই ইনজেকশন আর কেনা সম্ভব হয়নি।