মিরাজুল কবীর টিটো : কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে যশোর শহরের খড়কী ও বেজপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার সাথে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তায় খানা-খন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে খড়কী এলাকায় ড্রেন,কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকায় এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ সহজে দূর হচ্ছে না। একথা স্বীকার করেছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শরীফ হাসান। ১০ জুলাই শুক্রবার ভারি বর্ষণে যশোর শহরসহ অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যায়। পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রোববার সব ওয়ার্ড থেকে পানি নিষ্কাশন হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন হওয়ার পর দেখা গেছে ওয়ার্ডে প্রায় অধিকাংশ রাস্তা মাঝে থেকে পিচ খোয়া উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে পানি জমে থাকায় ওয়ার্ডবাসির চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে-খড়কী ও কারবালা এলাকায় ড্রেন, কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজ চলমান থাকায় রাস্তার উপর পানি জমে আছে। খড়কী এলাকার বাসিন্দা তরকারি বিক্রেতা রুস্তম আলী জানান-আমাদের ওয়ার্ডের রাস্তা, ডেন ও কালভার্ট নির্মান কাজ শেষ হচ্ছে। এ কারনে রাস্তায় পানি জমে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমে থাকালয় কোনটা রাস্তা বা কোনটা ড্রেন বোঝার উপায় ছিল। চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই ড্রেনে পড়ে আহত হয়। জলাবদ্ধতা দুর হলেও রাস্তার মাঝে সৃষ্টি হওয়া গর্তে পানি জমে থাকায় চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। একই কথা জানান ওই এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নাহার, মাসুদ হোসেনসহ আরো অনেকেই। বিশেষ করে সরকারি এমএম কলেজের দক্ষিণ গেটের সামনে রাস্তা ও ড্রেন কাজ দেড় বছর ধুরে চলমান রয়েছে। একাজ শেষ না হওয়ায় সেখানের জমে থাকা পানির মধ্যে ওয়ার্ড বাসিদের চলাচল করতে হচ্ছে। একই অবস্থা শহরে বেজপাড়া,শংকরপুর এলাকার। শুক্রবারের বৃষ্টিতে বেজপাড়া চোপদারপাড়া, কবরস্থানপাড়া, জমাদ্দার পাড়া ও শংকরপুরে অনেক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এলাকা গুলোতে এত পরিমানে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয় ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে যায়। রোববার এসব এলাকার পানি নেমে গেছে। কিন্তু রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি হয় পড়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতার কারনে এসব এলাকা রাস্তার মাঝ থেকে খোয়া পিচ উঠে গিয়ে অনেক ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বৃষ্টি হওয়ায় এসব এলাকায় আবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তার মাঝে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টিতে নতুন করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসির দুর্ভোগ আরো বেড়েছে বলে জানান সেখানর বাসিন্দা আকবর আলী ও সেলিম। তারা জানান বেজপাড়া এলাকায় ড্রেন নির্মান কাজ চলমান থাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ব বারান্দী পাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তার মাঝ থেকে খোয়াপিচ উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান, বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুলের সামনের রাস্তার সামনের রাস্তায় বড় গর্তে সৃষ্টি হওয়ায় বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মোল্লাপাড়া থেকে ঢাকার রোড যাওয়ার রাস্তায় অনেক ছোটবড়গর্তে সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগের মধ্যে এলাকাবাসিকে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শরীফ হাসান জানান- কালভার্ট,ড্রেন ও রাস্তা নিমান কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় খড়কী ও কারবালা এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দুর হচ্ছে না অভিযোগটি সত্য। ওই এলাকায় নির্মান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে যে সব রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, বৃষ্টি বন্ধ হলে রাস্তাগুলো সংস্কার করে দেয়া হবে।