Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

যশোরে হাসপাতাল-ক্লিনিকে নরমাল ‘ডেলিভারি রুম’ নিয়ে গরজ নেই!

এখন সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই , ২০২৬, ০১:৪৬:২৬ এম

বিল্লাল হোসেন : গত ৬ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নির্দেশ দিয়েছিলেন ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে লেবার রুম বা নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের। কিন্তু ১৬ জুলাই পর্যন্ত যশোরের অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, সিজার বাণিজ্য ধরে রাখতে বিষয়টি নিয়ে কারও গরজ নেই। সিভিল সার্জন বলেছেন, নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের ব্যাপারে ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি-সম্পাদককে চিঠি দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, যশোর জেলায় ১৮৯ টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জমজমাট সিজার বাণিজ্য হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নরমাল ডেলিভারি রুমের প্রয়োজন হয়নি। ‘অপারেশন না করলে মা অথবা সন্তানের সমস্যা হতে পারে এমন ভয় দেখিয়ে স্বজনদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে বাধ্য করা হয়। কেননা সহজ সরল মানুষ মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় হাসপাতাল-ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের পাতানো ফাঁদে পা দেয়। ফলে সিজার বাণিজ্য ঠেকাতে এবং মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নত ও নিরাপদ করতে বেসরকারি সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ১১ জুলাইয়ের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু যশোরে অসাধুদের সিজার বাণিজ্যের কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোন গরজ নেই বললেই চলে। অথচ সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সরকারের মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যশোর শহরের একাধিক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দেখা গেছে, সেখানে ডেলিভারি রুম স্থাপন করা হয়নি। ফলে আগের মতই সিজার বাণিজ্য চলছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর সিজার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নরমাল ডেলিভারির ব্যাপারে কোন প্রতিষ্ঠান মালিক আগ্রহী নন। তাদেরকে বলা হয় নরমাল ডেলিভারিতে নবজাতক ও মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর দায়ভার হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকপক্ষ বহন করবেন না। ভয়ে সিজারের দিকে ঝুঁকেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে অন্তঃসত্ত্বা রোগী গেলেই সিজারের পরামর্শ দেয়া হয়। ভর্তির পর কোনো রোগীকে নরমাল ডেলিভারির পরামর্শ দেয়া হয় না। রোগীকে ঘিরে মোটা অংকের সিজার বাণিজ্য করা হয়। যশোর শহরে প্রথম শ্রেণির কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হয়। এতে রোগীর পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এছাড়া নরমাল হাসপাতাল-ক্লিনিকে সিজারে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ক্লিনিক মালিক জানান, নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের জন্য সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা বিষয়টি জানতেন না। এমন নির্দেশনা থাকলে অবশ্যই নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন করা হবে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনের দুইজন ক্লিনিক মালিক জানান, নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন করতে একটু সময় লাগবে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ এখনো বাস্তবায়ন না হলেও হাসপাতাল ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের জন্য নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপনের ব্যাপারে যশোর ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি-সম্পাদককে চিঠি দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে নরমাল ডেলিভারি রুম তৈরি করা হয়েছে। অন্যদেরও করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে নরমাল ডেলিভারি স্থাপন না করলে হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)