মিরাজুল কবীর টিটো : এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। অথচ পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা ঘটছে। ভুল প্রশ্ন বিতরণের অপরাধে কেন্দ্র সচিবকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। নকল করার দায়ে বহিষ্কার হচ্ছে পরীক্ষার্থী। তবে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু আব্দুস ছালাম বলেন-সুষ্ঠু পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এতে করে বলা যাবে না নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বোর্ড সূত্র জানায়-সুষ্ঠু ও নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২৪০ পরীক্ষা কেন্দ্রের সব কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষা তদারকি করা হচ্ছে। সঠিক প্রশ্ন বিতরণের জন্য কেন্দ্র সচিবদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতি পরীক্ষা শুরু আগে বোর্ড থেকে এসএমএসের মাধ্যমে সেট কোর্ড মেসেজের মাধ্যমে কেন্দ্র সচিবের মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্র সচিদের দায়িত্বহীনতার কারনে ভুল প্রশ্ন বিতরণ করা হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের পদক্ষেপ নেয়া হলেও অধিকাংশ পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে পরীক্ষার্থী বহিস্কার হয়েছে। ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে পরীক্ষায় নকল করার অপরাধে ২ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। বাকি পরীক্ষার এর গুলোরই ছিল একই অবস্থা। ৬ জুলাই ইংরেজি প্রথম পত্রে ৩, ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে-৮, ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ২, ১৫ জুলাই পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র ,হিসাব বিজ্ঞান ২য় ও যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র বিষয়ে-১ বহিষ্কার হয়েছে। শুধু পরীক্ষার্থী বহিষ্কার করা নয়,পরীক্ষায় দায়িত্বহীনতার কারনে ভুল প্রশ্ন পত্র বিতরণে কেন্দ্র সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়। ৮ জ্লুাই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় উপশহর মহিলা কলেজের নিয়মিত পরীক্ষার্থীর মাঝে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব, কলেজের উপাধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়। একই পরীক্ষায় মেহেরপুরের বামন্দি নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্ব অবহেলার কারনে রসায়নের সহকারি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, ইংরেজির সহকারি অধ্যাপক জেমিন আহমেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ১৯ জুলাই রোববার ঝিকরগাছার রঘুনাথ নগর কলেজ কেন্দ্রে রসায়ন প্রথম পত্র বিষয়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। এঘটনায় কেন্দ্র সচিব আব্দুল ওহাকবে প্রত্যাহার করে যশোর শিক্ষা বোর্ড সেই সাথে তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়। এ বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু আব্দুস ছালাম বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। পরীক্ষার্থীদের মাঝে ভুল প্রশ্ন বিতরণ ও নকলের দায়ে পরীক্ষার্থী বহিস্কার করা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা তদারকি করার কারনেই নকল করতে গিয়ে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হচ্ছে। ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। কারন সঠিক প্রশ্ন বিতরণের লক্ষ্যে বোর্ড থেকে এসএমএসের মাধ্যমে কেন্দ্র সচিবের মোবাইলে সেট কোর্ড পাঠানো হয়। সেই সাথে তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়েছে। প্রশ্ন যাচাইবাছাইয়ের সাথে জড়িত উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সদস্য, ট্যাগ অফিসার ও কেন্দ্র সচিব। বোর্ড থেকে শুধু কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা আছে। একারনে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভুল বিতরণের যে দায়ী সেখান থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।