ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি: থানা পুলিশ হানিট্রাপ ও পর্ণোগ্রাফি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কথিত সাংবাদিকসহ আরও দুই নারীকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে ফুলতলা থানায় মামলা হলে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। আটককৃতরা হলো-ফুলতলা প্রতিদিন পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার দাবিদার, খানজাহান আলী থানা তাঁতীলীগের সদস্য ও খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াদুত মিয়ার পুত্র মোঃ সুমন মিয়া ওরফে সাদ্দাম (৩৬), দামোদর গ্রামের আঃ রশিদ জমাদ্দারের কন্যা ঝুমুর জমাদ্দার (৩২) এবং অভয়নগর উপজেলার বৌবাজার এলাকার আঃ মজিদ মোড়লের কন্যা সাবিনা বিশ্বাস রওফে রিয়া বিশ্বাস (৩০)। পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, ফুলতলার জামিরা সড়কের ঢাকা আবাসিক হোটেলের পিছনে বিল্লাল হোসেন রওফে কোপা বিল্লালের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে হানিট্রাপে ফেলে বিভিন্ন এলাকার যুবকদের একান্ত পরিবেশের ভিডিও ধারণ করে ব্লাক মেইলের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়। বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় যশোর সদর থানার ইয়াপুর গ্রামের মৃত মতলেব আলীর পুত্র ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যালের এমপিও মোঃ মিলন হোসেন (৩৮) কে ঝুমুর জমাদ্দার অনকলে এনে তার বাসার সাবিনা বিশ্বাস ওরফে রিয়া বিশ্বাস এর রুমে ঢুকিয়ে দেয়। তবে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কথিত সাংবাদিক সুমন মিয়া ওরফে সাদ্দাম তার এক সহযোগীকে নিয়ে মিলন ও রিয়ার অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ভিডিও ধারণ করে। হঠাৎ করে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসা সুমন মিয়া ও তার সহযোগী জয়নুল এবং মক্ষীরানী ঝুমর জমাদ্দার মিলন হোসেনকে ধরে মারপিট এবং ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসি উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে মোঃ মিলন হোসেন বাদি হয়ে সুমন মিয়া ওরফে সাদ্দাম, ঝুমর জমাদ্দার ও সাবিনা বিশ্বাস ও রিয়ার নাম উল্লেখসহ আরও কয়েক ব্যক্তিকে আসামি করে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে সুমন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রুমের ঢুকার আগেই আমার পত্রিকার সম্পাদক সুমন সরদার এবং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বিশ্বজিৎ পালকে মোবাইল করে ওই রুমে গিয়ে ভিডিও ধারণ করি। যেটি ফুলতলা প্রতিদিন ফেসবুক পেজে প্রচারিত হয়। প্রসঙ্গত : কথিত সাংবাদিকদের ইন্ধনে মক্ষীরানী ঝুমুর ও রিয়ার হানিট্রাপে পড়ে অসংখ্য যুবক প্রতিনিয়ত ব্লাকমেইল ও হয়রানীর শিকার এবং পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। ফলে এলাকাবাসি একাধিকবার থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার পায়নি। এদিকে দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিনের ক্রাইম রিপোর্টার দাবি করা মোঃ সুমন মিয়া রওফে সাদ্দাম খানজাহানআলী থানা তাঁতীলীগের সদস্য ও ফুলতলা খানজাহানআলী মডেল প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক পদধারী সুমন মিয়া স্থানীয় একটি ব্রিকস্ কোম্পানীতে সপ্তাহে দুই দিন ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে হানিট্রাপকারীদের আটকের খবরে জামিরা সড়কে পুরুষ ও মহিলারা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে।