Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

একজন নারী ইউএনও ফারজানা ইসলাম

এখন সময়: শুক্রবার, ৩১ জুলাই , ২০২৬, ০৮:৫২:২৩ পিএম

বাবুল আক্তার, চৌগাছা : সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। উপজেলা পরিষদ ভবনের করিডোর প্রায় নিস্তব্ধ। একে একে নিভে গেছে অধিকাংশ কক্ষের আলো। কিন্তু একটি কক্ষে তখনও ব্যস্ততা। টেবিলজুড়ে সরকারি নথি, বাইরে অপেক্ষায় কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। সময়ের হিসাব যেন সেখানে থেমে আছে। দায়িত্বের কাছে অফিসের নির্ধারিত সময়ের কোনো আলাদা গুরুত্ব নেই। এ কক্ষটি চৌগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলামের। বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন দায়িত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নানা ধরনের চাপের জায়গা হিসেবে পরিচিত। সেই বাস্তবতায় একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন, নেতৃত্ব দেওয়া এবং মানুষের আস্থা অর্জন সহজ পথ নয়। তবু চৌগাছার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র উঠে আসে, সেখানে ফারজানা ইসলামের পরিচয় কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়; দায়িত্বশীল, মানবিক ও কর্মনিষ্ঠ একজন নারী নেতৃত্ব হিসেবেও। স্থানীয় শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবায় গতি এসেছে। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি এবং জনসেবায় জবাবদিহি—এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়েছে। প্রশাসনিক কাজের বাইরেও সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। অসহায় পরিবারের সহায়তা, প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা পেয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয়। অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন, মাদক, মজুদদারি এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে আইনের প্রয়োগ আরও দৃশ্যমান হয়েছে। চৌগাছার পরিবর্তনের এই গল্প শুধু একজন ইউএনওর একক প্রচেষ্টার নয়। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, শিক্ষা ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগকে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নিচ্ছেন ইউএনও ফারজানা ইসলাম। নিয়মিত সমন্বয় সভা, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বিভিন্ন দপ্তরের কাজের গতি বেড়েছে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। সরকারি সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে তিনি প্রশ্রয় দিতে চান না। তাঁর লক্ষ্য, উপজেলার প্রতিটি সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করা। কোনো দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। প্রশাসনসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি দপ্তরগুলোকে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগে সবার সমর্থন মেলেনি। দীর্ঘদিনের অনিয়মে সুবিধাভোগী একটি চক্র বিভিন্নভাবে এ উদ্যোগে অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তারা উপজেলার কয়েকজন দূণীতিবাজ রাজনৈতিক নেতাদেরকে সাথে নিয়ে সুনাম নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করছে। তবে এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন ইউএনও ফারজানা ইসলাম। ফারজানা ইসলাম বলেন, “সরকারি দায়িত্ব জনগণের প্রতি একটি অঙ্গীকার। আইন ও নীতিমালার আলোকে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। সরকারি সেবায় সততা ও স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। চৌগাছার প্রতিটি সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। মানুষের পরামর্শ ও সমালোচনাকেও আমি কাজের উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখি।” শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন ফারজানা ইসলাম। ভূমি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য তিনি যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চৌগাছার ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। পরে স্বল্পকালীন ছুটি শেষে একই বছরের ২৬ মার্চ পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ফিরে আসাকে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাগত জানান। বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ এখন আর ব্যতিক্রম নয়। তবে প্রতিটি সফল নারী কর্মকর্তার পেছনে থাকে কঠিন পরিশ্রম, পেশাগত সততা এবং নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। চৌগাছায় ফারজানা ইসলামের দায়িত্ব পালন সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। একজন কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর কাজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন সময়ই করবে। তবে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই কর্মমুখী ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রশাসনে নারীর সক্ষমতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বেরও প্রতিচ্ছবি। মাঠ প্রশাসনের পরিবর্তন কখনো একজন ব্যক্তির একার পক্ষে সম্ভব নয়। একজন দক্ষ নেতৃত্বের অধীনে যখন বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখনই তার সুফল পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের কাছে। চৌগাছার অনেক মানুষের মতে, গত কয়েক মাসে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সময়ই বলে দেবে এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—জনসেবাকেই প্রশাসনের মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন ইউএনও ফারজানা ইসলাম এবং তাঁর নেতৃত্বে কাজ করা প্রশাসনিক দল।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)