মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা ব্লিস হসপিটালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ আগুনের প্রচন্ড ধোঁয়ায় ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারী-পুরুষ শিশু সহ প্রায় ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়ে ব্লিজ হসপিটালের দুই স্টাফ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ১০ তলা বিশিষ্ঠ ব্লিস হাসপাতালের বেসমেন্টের একটি ঘরে অক্সিজেন সিলিন্ডার লিকেজ থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পেয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অনেকেই অসুস্থ্য হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও কোন হতাহতের ঘটনানি। তবে ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মীসহ ২০ জনের মত রোগী ও তাদের স্বজনরা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ শুরু করে। দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে প্রচন্ড ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। দ্রুত রোগীদের উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামি কমিউনি টি হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশানসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকান্ডের পর সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আহতদের হাসপাতালে নিতে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা কাজ করে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস, বিজিব এবং পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রচন্ড ধোয়োার কারইে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান। সাতক্ষীরায় ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে প্রথমে দুটি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রন কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আরো চারটি ইউনিট একত্রে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত দোয়ার কারণে তাদের চারজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, নিচ তলায় আগুন লাগার খবর শুনে আমরা তিনতলা থেকে নিচে নেমে আসি। এরপর রোগীদের দ্রুত সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়। অতিরিক্ত দোয়ার কারণে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হাসান সহ কিছু নারী ও শিশু রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে তাদেরকে নিরাপদে উদ্ধার করে বিভিন্ন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি এবং পুলিশের সদস্যরা পৌছে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা ৩টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। অগ্নিকান্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, কি কারনে আগুনের সূত্রপাত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি আগামী ৫ আগস্ট রিপোর্ট দিলে এর পুরোপুরি ঘটনা জানা যাবে।