নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বর্ষার আবহকে সুরের মায়াজালে বাঁধতে ‘সুরধুনী সংগীত নিকেতন’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শ্রাবণ-সন্ধ্যা উদযাপনের বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন—‘শ্রাবণের গান’।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ষামুখর আবহে সুর ও নৃত্যের মেলবন্ধনে এক অপার্থিব পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে এক সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছাবার্তায় সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ যশোরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সুর ও নৃত্যের এমন আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশনা উপস্থিত প্রতিটি সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকের হৃদয়ে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে—‘রিমঝিম ঐ নামিল দেয়া...’ গানের সুরমূর্চ্ছনায়। অনুষ্ঠানে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক উদীয়মান ও অভিজ্ঞ শিল্পী তাদের সর্বোচ্চ নিবেদনে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই প্রধান উপজীব্য ছিল রূপসী বাংলার বর্ষা। অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক খুদে শিল্পীর সমবেত কণ্ঠের পরিবেশনা ‘সারাদিন মেঘলা আকাশ...’ এবং ‘সবুজের দেশে শুধু সবুজ গান’ পুরো মিলনায়তনে এক শুভ্র মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি শিশুদের দলীয় নৃত্য ‘আয় বৃষ্টি ঝেপে...’ উপস্থিত দর্শকদের মনে এক নির্মল আনন্দের দোলা দেয়। তবে শিশুদের সঙ্গে প্রবীণ শিল্পীদের মেলবন্ধনে গাওয়া প্রতিবাদী সুরের গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো...’ সৃষ্টি করে এক ভিন্নমাত্রিক আবেদন। একক কণ্ঠে সুরের জাদু ছড়ান অহেনজিতা, মজুরা রহমান, তিথি অধিকারী, পারমিতা ভদ্র, শ্যামলী দাস, ইউসরা মানহা, শারমিন হক, মনিরুজ্জামান মুকুল, প্রত্যাশা, সুমন শেখ, মৌসুমী আক্তার, অর্পণা দাস, শচীন বর্মন, কৃষ্ণা ভক্ত, ডলি রহমান, ললিতা বিশ্বাস, তাওহীদুল ইসলাম এবং তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে তরিকুল ইসলামের কণ্ঠে বিচ্ছেদ ও বেদনাবিধুর গান ‘যারে হারায়েছি...’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই সুধারসের যবনিকাপাত ঘটে।
সংগীতের নেপথ্যে ছিলেন সংগীত পরিচালনা: তাওহীদুল ইসলাম ও ললিতা বিশ্বাস তবলায় অমিতাভ রাজ, মোহন ধর, সুজন দাস ও অনিক পাল এবং হারমোনিয়ামে তাওহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন তরিকুল ইসলাম।