মিরাজুল কবীর টিটো : সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে হেবা কিংবা কোনো ধর্মীয় আইনে হস্তান্তরের অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে না। শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্র ঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে’ শীর্ষক চাকরির মেলা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হেবা আইনে হাত দেওয়ার ক্ষমতা এ জগতে কারও নেই। আমরা ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী এনেছি। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হেবা কিংবা অন্য যেকোনো আইনে যেকোনো ধর্মের মানুষের সম্পত্তি হস্তান্তর এই সংশোধনীর কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।’ তিনি বলেন, এই সংশোধনী কোনো আইনের আওতায় দান, উইল কিংবা যেকোনো প্রকারে সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধা হতে পারে না। যারা বিতর্ক সৃষ্টি করছেন, তারা আইনের এই অংশটি না পড়েই রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। তাদের উদ্দেশে আইনটি ভালোভাবে পড়ার আহ্বান জানান তিনি। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অগণিত বৃদ্ধ বাবা-মা জীবনের শেষ সময়ে সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে শান্তিতে থাকতে চান। তাদের সুরক্ষার জন্যই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। পিতা-মাতা চাইলে একবারে হেবা করতে পারবেন, এতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। ইসলামী, হিন্দু কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় আইনে সরকার হাত দেয়নি এবং দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারের নেই। তিনি বলেন, শিশু, কিশোর ও যুবকদের পাশাপাশি প্রবীণদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্বও সরকারের। এ-সংক্রান্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করেই জনকল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক আইন চালু রয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এনজিও হিসেবে। এনজিও কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি গভর্নিং বডির অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গভর্নিং বডি গঠনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় ফিরতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ঋণের টাকা কারও ব্যক্তিগত বাড়ি করার জন্য দেওয়া হয়নি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করাই এর উদ্দেশ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থাকা সরকারের অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে পারলে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ‘ক্ষুদ্র ঋণ খাতে কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সেমিনারে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ও পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তার, আরআরএফের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চাকরির মেলায় ১ হাজার ১১৫ জনকে স্পট থেকেই চাকরি দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান নিজ হাতে কয়েকজনের নিয়োগপত্র তুলে দেন। মেলায় ২২ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।