বিল্লাল হোসেন : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের আম্রঝুটা গ্রামে সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে সরকারি রাস্তার দুই পাশজুড়ে ঘেরের পাড় সম্প্রসারণ করায় কোথাও চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে, আবার কোথাও রাস্তার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘেরে মাছের খাবার হিসেবে ময়লা-আবর্জনা, মল-মূত্র ও বিভিন্ন বর্জ্য ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আম্রঝুটা গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দীনের ছেলে মহসিন পাশা আশিংগাড়ি গ্রামে যাওয়ার সরকারি রাস্তার দুই পাশে মাছের ঘের তৈরি করেছেন। ঘেরটির সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন মিলন রায়। প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘেরের পাড়ের কারণে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে পাড় ভেঙে রাস্তার ওপর পানি ও কাদা জমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে রাস্তাটি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। কুলটিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দিলীপ কুমার সিংহ বলেন, মহসিন পাশা সরকারি রাস্তা দখল করে মাছের ঘের করেছেন এটা সত্য। তার মাছের ঘেরের কারণে রাস্তার দুই পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই বছর আগে রাস্তার পাড় ৩ থেকে ৪ ফুট উঁচু করে বাঁধাই করা হয়েছিল। কিন্তু মৎস্যঘেরের কারণে সেই পাড় আবারও ভেঙে গেছে। এদিকে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগের পাশাপাশি ঘেরে মাছের খাবার হিসেবে ময়লা-আবর্জনা, মল-মূত্র ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আম্রঝুটা থেকে ডাঙ্গামহিষদিয়া যাওয়ার সড়কের পাশের আরেকটি তেলাপিয়া ঘেরেও একই ধরনের বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সরকারি রাস্তার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখল হয়ে থাকলে তা দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘেরে বর্জ্য ব্যবহারের অভিযোগেরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি দখলের পেছনে কারও সহযোগিতা বা প্রশ্রয় ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। তবে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মহসিন পাশা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। রাস্তার দুই পাশে আমার মাছের ঘের রয়েছে, তবে এতে মানুষের চলাচলে কোনো দুর্ভোগ হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে মাছের ঘের তৈরির বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ঘেরে মাছের খাবার হিসেবে ময়লা-আবর্জনা, মল-মূত্র ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।