নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় দেয়া হয়েছে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুস সবুরকে। এই আবেগঘন মুহুূর্তে নিজে কাঁদলেন, সবাইকে কাঁদালেন তিনি। দীর্ঘ চাকরি জীবন শেষে ঝিনাইদহ সদরের বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুস সবুরকে ফুলে ফুলে শোভিত প্রাইভেটকারে বিদ্যালয় চত্বর থেকে বাড়ির আঙিনায় পৌঁছে দেন তার সহকর্মী, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এ সময় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোভেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু। সভাপতিত্ব করেন, বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রফেসর সালেহ মতিন। সঞ্চালনা করেন, বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, বেলসন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক মামুন আহম্মেদ, সুরাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, সুরাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান জোয়াদ্দারসহ অনেকে। সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুস সবুর বানিয়াবহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ বছর শিক্ষকতা করেছেন। তিনি কৃষি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। বিদায়ী অনুষ্ঠানে তাকে এয়ার কন্ডিশনার (এসি), মাইক্রোওভেন, ডিনারসেট, ঘড়ি, বই, এক লাখ টাকা, পোশাক ছাড়াও বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০টি সম্মাননা স্মারক উপহার দেয়া হয়েছে। বিদায়ী শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন, ৩১ বছরের শিক্ষকতা জীবনে ছাত্রছাত্রীদের সবসময় ভালো পাঠদানের চেষ্টা করেছি। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমি এখানে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। বিদায়ী বেলার আমার সহকর্মী শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, ছাত্রছাত্রীসহ এলাকাবাসীর ভালোবাসা পেয়ে আমি খুশি হয়েছি। সবার কাছে দোয়া প্রার্থী আমি যেন সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন করতে পারি। এদিকে, শিক্ষকতা পেশায় থেকে আব্দুস সবুর তার দু’টি কন্যা সন্তানকে ডাক্তারি (চিকিৎসক) পড়িয়েছেন।