Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

চৌগাছায় ২৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া বকেয়া

এখন সময়: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১১:৩৩:১৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সরকারি বাসভবন, ফ্ল্যাট ও ডর্মেটরিতে বসবাসকারী ২৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বাসা ও সিট ভাড়া বকেয়া পড়েছে। মাসের পর মাস ভাড়া পরিশোধ না করেই এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি আবাসনে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকারি রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের নামে বকেয়া জমতে থাকায় তাদের দায়ও বাড়ছে। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে চৌগাছা উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য চেয়ারম্যানের বাংলোসহ দুটি বাংলো, ছয়টি ভবনে ২৪টি ফ্ল্যাট এবং একটি ডর্মেটরি নির্মাণ করা হয়। বাংলোতে সাধারণত গেজেটেড কর্মকর্তারা এবং ফ্ল্যাটে নন-গেজেটেড কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করেন। ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে বর্তমানে ২১টিতে পরিবার বসবাস করছে। বাকি কয়েকটি কক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডর্মেটরিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রায় ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরকারি আবাসনে বসবাসকারীদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বাসা ভাড়া পরিশোধ করছেন না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামসুন নাহারের নামে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে সরকারি বাসায় বসবাস করলেও কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। জুন ২০২৬ পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা হিসাবে তাঁর কাছে ৩৬ মাসের ১ লাখ ৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট হিসাবের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পিআইও শামসুন নাহার দাবি করেছেন, তাঁর কোনো বকেয়া নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ বাসা ভাড়া পরিশোধ করেছেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের ১৭ মাসের ৫১ হাজার টাকা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওবায়দুল ইসলামের ১৪ মাসের ৪২ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক সোহেল রানার ১২ মাসের ৩৬ হাজার টাকা এবং ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শাহজালালের ৯ মাসের ২৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে। একইভাবে লাইসিয়াম স্কুলের শিক্ষক ও উপজেলা মসজিদের ইমাম শাহজাহান আলীর ১২ মাসের ৩৬ হাজার টাকা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী শরিফুল ইসলামের ছয় মাসের ১৮ হাজার টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুর জব্বারের তিন মাসের ৯ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডর্মেটরিতে বসবাসকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ১৪ জন স্টাফের কাছে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মাসিক ৫০০ টাকা হারে সিট ভাড়া বাবদ প্রায় ৭২ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১৭ মাসের ৫১ হাজার টাকা, উপজেলা তথ্য অফিসের ২৫ মাসের ৭৫ হাজার টাকা, উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের তিন মাসের ৯ হাজার টাকা এবং উপজেলা মডেল রিসোর্স সেন্টার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের ১৭ মাসের ৫১ হাজার টাকা বাসা ভাড়া বকেয়া রয়েছে বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাংলোতেও বরাদ্দ ছাড়াই একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বসবাস করছেন। তাঁর নামে ওই বাংলো বরাদ্দ না থাকলেও তিনি সেখানে কোনো ভাড়া পরিশোধ না করে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে সরকারি বাংলো, ফ্ল্যাট ও ডর্মেটরিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বকেয়া রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বকেয়া থাকায় সংশ্লিষ্টদের নামেও আর্থিক দায় জমছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো বকেয়া নেই। সম্পূর্ণ বাসা ভাড়া পরিশোধ করা আছে। আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাকে জানাতে পারেন।’ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমাদের কাছে আসেনি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। সম্পূর্ণ বিষয়টি ইউএনও স্যার জানেন।’ উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)