ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ও খাল খনন করা হলেও মিলেনি কাঙ্ক্ষিত সমাধান। দীর্ঘ চার বছর ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে দিনশেষে সাধারণ মানুষ, মুমূর্ষ রোগী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ভাড়ায় চালিত নৌকা। ডুমুরিয়ার বিল ডাকাতিয়া সংলগ্ন মুজারঘুটা, বারানশি, বটবেড়া, সাজিয়াড়া, মাধবকাটি ও সাড়াবেটা গ্রামে বর্ষার পানি জমলেই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বর্ষা মৌসুমে এলাকার প্রায় ৯৯ শতাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে কিংবা দৈনন্দিন কাজের জন্য ঘরের বাইরে বের হতেই খেয়া বা ভাড়ার নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। সবচেয়ে সংকটে রয়েছে কৃষ্ণনগর এমবিবিএস মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী। বছরের একটি বড় সময় ধরে জীবন ঝুঁকি নিয়ে তাদের নৌকায় চড়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। শুধু তা-ই নয়, নৌকা থেকে নেমে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে আবার হেঁটে পৌঁছাতে হয় শ্রেণীকক্ষে। একদিকে প্রতিদিনের বাড়তি নৌকা ভাড়া, অন্যদিকে নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি সব মিলিয়ে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিচ্ছেন। বটবেড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশ মন্ডল ও বারানশি গ্রামের রবীন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে ভাড়ার নৌকায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। পানির কারণে ছোট ছোট শিশুদের এই যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান কুমার রায়ও স্বীকার করেন যে, শিক্ষার্থীদের এই কষ্ট দীর্ঘদিনের, যা তাদের পড়ালেখায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবার নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা জলাবদ্ধতা নিরসনের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় না। একের পর এক প্রকল্প ও খাল খননের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উল্টো জলাবদ্ধতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিত বালা জানান, অতিরিক্ত পানির কারণে সড়ক সংস্কার ও বালি ভরাটের কাজ ব্যাহত হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ডুমুরিয়াবাসীর দাবি-সাময়িক কোনো লোকদেখানো প্রকল্প নয়, বরং বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী টেকসই সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য দ্রুত টেকসই উঁচু সড়ক নির্মাণ করতে হবে।