নিজস্ব প্রতিবেদক: মায়ের সঙ্গে মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি। এরপর সেখানে গিয়ে শিপ্রা রানী ঘোষের সঙ্গেও হয় বাকবিতণ্ডা। রাতে বাড়িতে ফিরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন ১৬ বছরের এই কিশোরী। তার মৃত্যুর জন্য চাঁচড়া শ্রী শ্রী দশমহাবিদ্যা ইস্কন মন্দিরের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যকে দায়ী করে মরদেহ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মানসিক নির্যাতন ও প্ররোচনার শিকার হয়েই শিপ্রার এমন করুণ পরিণতি হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শিপ্রার মরদেহের কফিন নিয়ে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা যশোর প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বলেন, চাঁচড়া শ্রী শ্রী দশমহাবিদ্যা ইস্কন মন্দিরের অধ্যক্ষ ও কয়েকজন সদস্যের আচরণে শিপ্রা দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি তারা জানতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিপ্রার মায়ের সঙ্গে মন্দিরের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শিপ্রা মন্দিরে গেলে তার সঙ্গেও কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর বাড়িতে ফিরে রাতে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহত শিপ্রা রানী ঘোষ (১৬) চাঁচড়া বাজার এলাকার ইস্কন মন্দিরসংলগ্ন বাসিন্দা নিরধ কুমার ঘোষের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিপ্রাকে উদ্ধার করা হয়। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। শিপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভ থেকে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে পরবর্তীতে আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।