Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু : আর ফিরবে না বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তায় হারিয়ে যাওয়া তাজিম

এখন সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর , ২০২৬, ০৪:৫২:৩২ পিএম
একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু : আর ফিরবে না বান্দরবানের  পাহাড়ি রাস্তায় হারিয়ে যাওয়া তাজিম

মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা) : এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতে এখনো বাকি। অথচ সেই ফলাফলের আনন্দ আর স্পর্শ করা হলো না মো. তাজিম মিয়ার (১৯)। নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সব সমীকরণ ওলট-পালট করে দিয়ে চিরতরে বিদায় নিলেন শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এই মেধাবী ছাত্র ও সক্রিয় রোভার স্কাউট সদস্য। ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে টানা ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন এই প্রাণোচ্ছল তরুণ। গত ৩১ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে বান্দরবানের মনোরম পাহাড়ি পথ ধরে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাজিম। চলন্ত গাড়ি থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে যান তিনি। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায় চারপাশ। দুর্ঘটনায় তাজিমের মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে বান্দরবান ও পরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিবার বিকেল ৫ টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাজিমের জীবনের গল্পটা আর দশটা সাধারণ ছেলের মতো সহজ ছিল না। বাবা মো. লিটন মিয়ার এই সন্তান মাত্র ২ বছর বয়সেই মাতৃহীন হন। মা তাকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর অবুঝ তাজিমের আশ্রয় হয়েছিল ফুফু বিজলি খাতুনের কোলে। বুকভরা ভালোবাসা দিয়ে তাজিমকে বড় করে তোলেন ফুফু। শিশু তাজিমকে কোলে পেয়ে তিনি বিয়ের চিন্তায় করেননি। ফুফুর সেই স্নেহের প্রতিদান দিতেই যেন পড়ালেখায় দারুণ মনযোগী হয়ে উঠেছিলেন তাজিম। স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার, রোভার স্কাউটের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার। কিন্তু সেই ফুফুকে আজীবন কাঁদানোর এক মহাসমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলেন তিনি। তাজিমের এই অকাল মৃত্যুতে শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউটের সহকর্মী এবং তাঁর নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার সকাল ১১টায় টুপিপাড়া ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন হাজারো শোকার্ত মানুষ। এরপর অশ্রুসিক্ত নয়নে টুপিপাড়া সম্মিলিত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। যে তরুণ একদিন দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখতেন, আজ তিনি মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছেন শান্তিতে। বান্দরবানের সেই পাহাড়ি রাস্তা কেবল একটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, পিষে দিয়ে গেছে একটি পরিবারের আশা, স্বপ্ন আর বুকভরা ভালোবাসা।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)