মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রুমানা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত রুমানা জিউধরা ইউনিয়নের সোমাদ্দারখালী গ্রামের ইউনুছ হাওলাদারের মেয়ে। প্রায় ১৫ বছর আগে গোদাড়া গ্রামের জয়নাল খানের ছেলে ভ্যানচালক রহমান খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রুমানাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও পারিবারিক বিরোধের সমাধান হয়নি। পরিবারের দাবি, বুধবার সকালে রুমানা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বামী রহমান খান তাকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। নিহতের বাবা ইউনুছ হাওলাদার ও স্বজনেরা অভিযোগ করেন, রুমানাকে গলাটিপে ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়া হক বলেন, রুমানাকে তার স্বামীসহ আরও দুজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রহমান খানকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা না আত্মহত্যা-তা বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহত রুমানার ৪ বছরের ছেলে রায়হান ও ১৩ বছরের মেয়ে হালিমা ইয়াসমিন রুকাইয়া রয়েছে।