Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

যশোরে জাল দলিলে ৩ কোটি টাকার জমি আত্মসাতে সাব-রেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এখন সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর , ২০২৬, ০৪:৫৫:০৪ পিএম
যশোরে জাল দলিলে ৩ কোটি টাকার জমি আত্মসাতে  সাব-রেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরের ঘোপ জেল রোডের ছয় শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের ঘোপ জেল রোডের ফজলে আকবরের ছেলে ফজলে রাব্বী বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা বেগম অভিযোগের তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস। আসামিরা হলেন-যশোর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার আমেনা বেগম, শহরের ঘোপ জেল রোডের মৃত হারুন-অর-রশীদের ছেলে মোশারফ হোসেন, উপশহর ৭ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মাওলানা জুলফিকার আলীর স্ত্রী ফজলিয়ারা খাতুন, ঘোপ জেল রোডের মৃত আলহাজ গোলাম রব্বানীর ছেলে দলিলের সাক্ষী ফকরুল কবির বুলবুল, সদরের সুজলপুরের মৃত জনাব আলীর ছেলে দলিলের সাক্ষী মহসিন, উপশহর ১ নম্বর সেক্টরের মোশারফ হোসেনের ছেলে দলিলের সাক্ষী জামাল হোসেন, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মৃত মুজিবর রহমানের ছেলে দলিল শনাক্তকারী ওমর ফারুক সাগর ও পাগলাদাহ গ্রামের দলিল লেখক কাজী রুহুল কুদ্দুস। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ফজলে রাব্বীর বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। ফজলে রাব্বীর পিতা ফজলে আকবর ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৪২৯৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরএস ১৭৭০ দাগসহ বিভিন্ন দাগের মোট ৮২ দশমিক ৪৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন। পরে বাদী নিজের নামে নামজারি করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। ওই জমির মধ্যে ছয় শতক জমি মোশারফ হোসেন ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ১৪২৭৪ নম্বর একটি জাল কবলা দলিল তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে ওই দলিলের ভিত্তিতে নামজারির উদ্যোগ নেন তিনি। এ নিয়ে ফজলে রাব্বী দেওয়ানি মামলা দায়ের করলে ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট আদালত তাঁর পক্ষে একতরফা আদেশ দেন। ওই আদেশে বিরোধপূর্ণ জমি উচ্ছেদ, মাটি কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, হস্তান্তর কিংবা জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই আপিল আদালতও আগের আদেশ বহাল রাখেন। ফলে ফজলে রাব্বীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি), ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই বিরোধপূর্ণ ছয় শতক জমির নামজারি-সংক্রান্ত ১১৪৩৮/৯-১/২০২০-২১ নম্বর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এরপরও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল ডিসিআর তৈরি ও ব্যবহার করে জমিটি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০৫৬৩/২০২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এতে ছয় শতক জমির বিক্রয়মূল্য তিন কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রার আমেনা বেগমসহ অপর আসামিরা জাল দলিল সম্পাদন, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। ফজলে রাব্বী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই করা ডিসিআরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভুয়া ডিসিআর ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি এবং জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসামিরা দুর্নীতির অপরাধ করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)