নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার ও রোববার এবার দুইদিন মহাসপ্তমী পূজা পালিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ সোমবার মহাষ্টমী। শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের শুভ্রতা, শিউলির সুবাস আর ঢাকের শব্দে বাংলার প্রকৃতি যখন দুর্গোৎসবের আনন্দে মুখর, তখন মহাষ্টমী নিয়ে আসে ভক্তি, শক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ বার্তা। শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হলেও এর তাৎপর্য কেবল পূজায় সীমাবদ্ধ নয়। অশুভের বিরুদ্ধে শুভের সংগ্রাম, নারীর মর্যাদা, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা মহাষ্টমী দেয়, তা সমকালীন সমাজের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক।কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে সমাজ মহাষ্টমীতে দেবীকে শক্তিরূপে পূজা করে, সেই সমাজেই নারী কেন নির্যাতিত হন? যে পূজায় অসুর বিনাশের প্রার্থনা করা হয়, সেখানে দুর্নীতি, অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কতটা দৃঢ়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মধ্যেই মহাষ্টমীর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। পুরাণের এই আখ্যানকে কেবল অতীতের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখলে এর সামাজিক শিক্ষা অধরা থেকে যায়। বরং এর মধ্যে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস খুঁজে নিতে হবে। আজকের সমাজে চণ্ডমুণ্ডের প্রতীকী রূপ হতে পারে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী নির্যাতন, দুর্বল মানুষের অধিকার হরণ এবং ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করা। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছাড়া ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অন্যায়কারী যত ক্ষমতাবানই হোক, তার অন্যায়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ন্যায়ভিত্তিক সমাজের শর্ত। মহাষ্টমী আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।দুর্গোৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের কথাও ভাবতে হবে। যাঁদের ঘরে খাবার নেই, যাঁরা চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন কিংবা যাঁদের সন্তান অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না, তাঁদের দুর্দশা উপেক্ষা করে উৎসবের জাঁকজমক নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই। পূজার প্রসাদ ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তুলে দেওয়া, দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নেওয়া-এসব কাজ ধর্মীয় মূল্যবোধকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে। মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন ছাড়া ধর্মীয় আচারও তার পূর্ণ সামাজিক অর্থ পায় না।