নিজস্ব প্রতিবেদক : স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তান থাকার পরও নিজেকে অবিবাহিত দেখিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে চালক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে তিনি চাকরি পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্ত রুবেল হোসেন যশোর সদর উপজেলার কামারগন্যা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুল্লাহ। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের পূর্বাঞ্চল ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর ব্যাচ নম্বর ঢাকা-১৭ বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুবেল ২০২৫ সালে পারিবারিকভাবে জুঁই নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাঁদের জান্নাতি নামে দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবারের সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁর শ্বশুরের নাম মারজান। এর আগে রুবেল যশোর শহরের সিটি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ সালে চালক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির ‘চ’ নম্বর শর্তে প্রার্থীকে অবিবাহিত থাকার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে রুবেল ওই শর্ত পূরণ না করেই চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি আবেদনের সময় বৈবাহিক তথ্য গোপন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। কামারগন্যা গ্রামের ইউপি সদস্য সাহাবার হোসেন বলেন, ‘আমি রুবেলকে চিনি। তাঁর বাবার নাম আব্দুল্লাহ। তিনি বিবাহিত। তাঁর শ্বশুরের নাম মারজান।’ স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য শিখা বেগম বলেন, ‘আমি রুবেলকে চিনি। তিনি বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে তাঁকে চারিত্রিক ও নাগরিক সনদ দিয়েছি।’ তবে অবিবাহিত উল্লেখ করে কোনো সনদ দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো বৈবাহিক সনদ দিয়েছেন বলে তাঁর মনে পড়ছে না। রুবেলের চাচা শ্বশুর লিটন, যিনি কামারগন্যা মোড়ে চায়ের দোকান পরিচালনা করেন, তিনিও রুবেলকে নিজের ভাইয়ের জামাই বলে পরিচয় দেন। স্থানীয় চা দোকানি সোহাগও তাঁর বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রুবেলের বাবা আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেও তাঁর বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে রুবেলের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে বলেও জানান। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুবেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করে অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে রুবেলের ছোট ভাই পরিচয় দেন। তিনি জানান,ফোনটি বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে। পরে রুবেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর নম্বর চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ বিষয়ে রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, ‘অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। কারও ক্ষেত্রে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে এবং কেউ অভিযোগ দেন, তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ স্থানীয়দের বক্তব্য ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নিয়োগের সময় তিনি কী তথ্য দিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।