বেঁচে যাওয়া ইউএনওর বর্ণনা এমন বীভৎস দৃশ্য জীবনে দেখিনি, মৃত্যুর কূপ দেখে এসেছি

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই , ২০২৪, ১১:১৫:২৫ পিএম

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ভয়ংকর ও বীভৎসতার মুখোমুখি হয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও তার স্ত্রীর পা ভেঙে গেছে।  প্রাণে বেঁচে সেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন মুজাহিদ। তিনি বলেন, এমন বীভৎস দৃশ্য আমার জীবনে দেখিনি। মৃত্যুর কূপ দেখে এসেছি। ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ ও তার স্ত্রী উম্মুল আরা লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় ভিআইপি কেবিনে ছিলেন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন এই দম্পতি। তবে  তড়িঘড়ি করে লঞ্চ থেকে নামার সময় তার স্ত্রীর পা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া, পাথরঘাটার কয়েকশ মানুষ আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, রাত তিনটার দিকে হঠাৎ লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় আমাদের ভিআইপি কেবিনসহ আশপাশ এলাকায় ধোঁয়ায় নাক বন্ধ হয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মানুষের চিৎকারে এক বীভৎস অবস্থা তৈরি হয়। এ সময় স্ত্রী উম্মুল আরাকে নিয়ে কত দ্রুত ও কীভাবে যে লঞ্চের সামনের দিকে নেমে এসেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না। এরই মধ্যে ঝালকাঠির দিয়াকুল গ্রামে নদীর তীরে লঞ্চটি ভেড়ানো হলে আমরা দ্রুত নেমে পড়ি। এ সময় কয়েকশ মানুষ লঞ্চ থেকে নামতে পারলেও বেশির ভাগ মানুষ লঞ্চে আটকা পড়ে যায়। অনেককে দেখা গেছে, নিজের প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। প্রচন্ড শীতের রাতে তারা নদী সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন কি না, তা স্বজনেরাও বলতে পারছেন না। ইউএনও বলেন, অনেককে দেখা গেছে, লঞ্চ থেকে নামার সময় তার শিশু সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এ সময় তারা আবার লঞ্চের দিকে দৌড়ে গিয়ে আগুনে আটকা পড়ে যান। এ অবস্থায় লঞ্চে শিশু, নারীসহ যাত্রীদের চিৎকারে এক বীভৎস অবস্থা তৈরি হয়। এমন বীভৎস্য দৃশ্য আমার জীবনে দেখিনি। মৃত্যুর কূপ দেখে এসেছি।