শুভাগতর জোড়া সেঞ্চুরিতে বিসিএল চ্যাম্পিয়ন মধ্যাঞ্চল

এখন সময়: সোমবার, ৩ অক্টোবর , ২০২২ ১৩:২০:৩৭ pm

ক্রীড়া ডেস্ক : প্রথম ইনিংসে বিপদে পড়া দলকে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে পথ দেখানো শুভাগত হোম চৌধুরির ব্যাট হাসল দ্বিতীয় ভাগেও। বিসিবি দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে রান তাড়ায় অপরাজিত শতক উপহার দিলেন তিনি। তার ও জাকের আলির নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের শিরোপা ঘরে তুলল ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল।
দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালের শেষ দিন বৃহস্পতিবার মধ্যাঞ্চলের জয় ৪ উইকেটে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে তারা জিতল তৃতীয় শিরোপা। দলটি আগের শিরোপাটি জিতেছিল ২০১৫-১৬ মৌসুমে।
২১৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের জন্য পঞ্চম দিন ১৯২ রান প্রয়োজন ছিল মধ্যাঞ্চলের। ৩ উইকেটে ২৬ রান নিয়ে খেলতে নামা দলটি লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিনের দ্বিতীয় সেশনেই।
দিনের শুরুতে দ্রুত আরও তিন উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছে দল, হাল ধরেন শুভাগত ও জাকের। দুইজনে গড়েন ১৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। যেখানে অগ্রণী ছিলেন শুভাগত।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১২১ বলে ২ ছক্কা ও ১৩ চারে ১১৪ রান করে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন শুভাগত। প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চল অধিনায়ক খেলেছিলেন ১১৬ রানের ইনিংস। ডাবল সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ২৮৩ রানের জুটি গড়ে দলকে এনে দিয়েছিলেন বড় সংগ্রহ। প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা জাকের এবার অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে।
দিনের তৃতীয় ওভারেই সৌম্য সরকারকে হারায় মধ্যাঞ্চল। আগের দিনের ৮ রানের সঙ্গে কোনো রান যোগ না করতেই মেহেদি হাসান রানার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান সৌম্য।
মেহেদি রানা টিকতে দেননি তাইবুর রহমানকেও। থিতু হওয়ার চেষ্টায় থাকা এই ব্যাটসম্যান ক্যাচ দেন কিপারের হাতে। আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান সালমান হোসেন কিছুক্ষণ লড়াই করলেও পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ফেরেন ৫ চারে ৩৭ রান করে।
৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পথ হারাতে বসা দলের হাল ধরেন শুভাগত ও জাকের। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন শুভাগত, সাবধানী ছিলেন জাকের।
শুভাগত ফিফটি স্পর্শ করেন ৬৩ বলে, সমান সংখ্যক বল খেলে জাকেরের রান তখন ১৬। তাদের দুইজনের জুটিতে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে মধ্যাঞ্চল।
রিশাদ হোসেনকে চার মেরে শুভাগত পা রাখেন ষোড়শ সেঞ্চুরিতে। আগের ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে এসেছিল ১৫২ রান। ফাইনালে জয়সূচক রানটি এসেছে জাকেরের ব্যাট থেকে, নাসুম আহমেদকে চার মেরে।
জোড়া সেঞ্চুরি করা শুভাগত জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। একটি করে সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি করা মিঠুন এবং তিনটি শতক হাঁকানো জাকির হাসান পান টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৩৮৭
মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৪৩৮
দক্ষিণাঞ্চল ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৪৩/১) ৭৫.৫ ওভারে ২৬৮ (পিনাক ২৭, এনামুল ০, অমিত ৪১, হৃদয় ১, জাকির ০, মেহেদি ২৪, ফরহাদ ১৩, নাসুম ৪১, রিশাদ ৯৯, মেহেদি রানা ১১, কামরুল ০*; আবু হায়দার ২৪-৪-৭৮-৫, মুরাদ ১৬-৫-৩৫-১, শুভাগত ১১-১-৫২-০, মুকিদুল ১৬-২-৫৫-১, রবিউল ০.২-০-৭-০, সৌম্য ৬.৪-০-৩০-১, তাইবুর ১.৫-০-২-১)
মধ্যাঞ্চল ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২১৮) (আগের দিন ২৬/৩) ৬৩.৫ ওভারে ২২১/৬ (সৌম্য ৮, সালমান ৩৭, তাইবুর ৩, শুভাগত ১১৪*, জাকের ৪১*; ফরহাদ ১১-৪-৩৮-১, মেহেদি রানা ১৫-২-৫০-২, নাসুম ১৩.৫-২-৪৩-২, মেহেদি ১০-৩-২৫-০, কামরুল ১০-২-৩১-১, রিশাদ ৪-০-৩০-০)
ফল: ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ অব দা ম্যাচ: শুভাগত হোম চৌধুরি
ম্যান অব দা সিরিজ: মোহাম্মদ মিঠুন ও জাকির হাসান।