ইউক্রেইন যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে!

এখন সময়: বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০২২ ২২:০০:৫৬ pm

স্পন্দন ডেস্ক : সমরবিদরা একে বলেন ‘ফগ অব ওয়ার’। সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, এরকম সময় সেটা অনুমান করা মুশকিল। যুদ্ধক্ষেত্রে কী হচ্ছে সেই খবর ঠিকঠাক না মেলা, কূটনৈতিক আলাপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, শোকাহত ও বাস্তুচ্যুতদের আবেগ প্রবল হয়ে ওঠা-এর সবগুলোই তখন প্রকট হয়ে উঠতে পারে।

ইউক্রেইনে চলমান যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে ফিরে গিয়ে বিবিসি বোঝার চেষ্টা করেছে-কীভাবে এ যুদ্ধের শেষ হতে পারে। রাজনীতিবিদ ও সামরিক বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলে পর্যালোচনা করা হয়েছে সম্ভাব্য দৃশ্যপটগুলো।

বিবিসি লিখেছে, এমন পরিস্থিতিতে খুব কম লোকই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। তারপরও সম্ভাব্য কিছু ফলাফল অনুমান করা যায়, যার বেশিরভাগই হতাশাব্যঞ্জক।

যুদ্ধ এমন প্রেক্ষাপটের দিকে মোড় নিলে রাশিযাকে সামরিক অভিযান জোরদার করতে দেখা যাবে। ইউক্রেন জুডে নির্বিচারে কামান এবং রকেট হামলার খবর আসবে।

যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়ার বিশাল বিমান বাহিনীর খুব বেশি সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি। তবে রাশিয়া অভিযানের গতি বাড়ালে ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চলতে দেখা যেতে পারে। ইউক্রেইনের প্রধান জাতীয প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক সাইবার হামলা চালানো হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে হয়ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ নেটওযার্ক বিচ্ছিন্ন হযে যাবে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটবে। সাহসী প্রতিরোধের পরও কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানী কিযেেভর পতন ঘটবে।

এরপর কী ঘটবে? ক্রেমলিন হয়ত মস্কোপন্থি একটি পুতুল সরকার বসাবে কিয়েভে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হয় খুন হবেন, নয়ত ইউক্রেইনের পশ্চিমের কোথাও বা বিদেশে গিয়ে নির্বাসিত সরকার গঠনের ঘোষণা দেবেন।

ঘটনাপ্রবাহ এ পথে এগোলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার বিজয় ঘোষণা করে কিছু সেনা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। তবে ইউক্রেইনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কিছু সেনা সেখানে মোতায়েন রাখা হবে। আরও মানুষ পশ্চিমের দেশগুলোতে পালাতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেইন হয়ে উঠবে বেলারুশের মতই মস্কোর একান্ত বাধ্য রাষ্ট্র।

সম্ভাব্য এই চিত্র অসম্ভব নয, তবে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে এসে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যেতে পারে।

আর এই প্রেক্ষাপট বাস্তবে রূপ পেতে হলে কিছু বিষয় অবশ্যই ঘটতে হবে। যেমন রুশ বাহিনীকে যুদ্ধে আরও ভালো করতে হবে, আরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করারও দরকার হতে পারে। কিংবা ইউক্রেইনের সৈন্যদের অসাধারণ লডাইযরে চেতনা ম্লান হয়ে আসতে পারে।

এই দৃশ্যকল্প সত্যি হলে পুতিন হয়ত কিযেেভর শাসক পাল্টে দিতে পারবেন, পশ্চিমাদের সঙ্গে ইউক্রেইনের যোগসূত্রও ছিঁড়ে ফেলতে পারবেন। কিন্তু সেই রুশ সমর্থিত সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, বিদ্রোহেরও ঝুঁকি থাকবে সব সময়।

যুদ্ধের ফল যদি এরকম হয়, ভবিষ্যৎ হবে অস্থিতিশীল, নতুন করে সংঘাত শুরুর ঝুঁকি থাকবে অনেক বেশি।

এরই মধ্যে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। ফলে ইউক্রেইনের যুদ্ধ একটি দীর্ঘস্থাযী যুদ্ধে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

পরিস্থিতি সেদিকে এগোলে ভঙ্গুর মনোবল, দুর্বল রসদ আর নেতৃত্বের ব্যর্থতায় রুশ বাহিনী কঠিন পরিস্থিতিতে আটকা পডতে পারে।

কিয়েভের মতো শহরগুলোকে দখল করতে রুশ বাহিনীর আরও বেশি সময লাগতে পারে, ইউক্রেইনের বাহিনী পথে পথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

সেরকম হলে রুশ বাহিনী দীর্ঘ অবরোধ তৈরি করতে পারে। সেটা হতে পারে চেচনিযার রাজধানী গ্রোজনি দখলের মত। ১৯৯০ এর দশকে সেই দীর্ঘ আর নৃশংস যুদ্ধে গ্রোজনির একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়েছিল রুশ হামলায়।

যুদ্ধ যদি দীর্ঘ হয়, রুশ বাহিনী ইউক্রেইনের শহরগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখলেও নিযন্ত্রণ ধরে রাখতে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এত বড় দেশ আয়ত্বের মধ্যে রাখতে রাশিয়া হয়ত পর্যাপ্ত সেনা সরবরাহ করতে পারবে না।

রাশিয়ার সাফল্য বিলম্বিত হলে স্থানীযদের সহযোগিতা আর সমর্থন নিয়ে ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি কার্যকর গেরিলা বাহিনীতে পরিণত হতে পারে। পশ্চিমারা তখন তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ চালিয়ে যাবে।

তারপর হয়তো বহু বছর পর মস্কোতে নতুন নেতৃত্ব এলে রুশ বাহিনী মাথা নত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ইউক্রেইন ছেডে চলে যেতে পারে, ঠিক যেভাবে তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে গিয়েছিল।

এবারের যুদ্ধ কী ইউক্রেইন সীমান্তের বাইরে চলে যেতে পারে?

নেটোর বাইরে থাকা মলদোভা ও জর্জিযার মতো সাবেক সোভিয়েতের দেশগুলোতে সেনা পাঠিয়ে প্রাক্তন সাম্রাজ্যের আরও অংশ পুনরুদ্ধার করতে চাইতে পারেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

অথবা কেবল হিসাবের ভুলে ঝুদ্ধের পরিসর আর তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। ইউক্রেইনীয বাহিনীর কাছে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহকে একটি আগ্রাসন হিসাবে ঘোষণা করতে পারেন পুতিন, যা পাল্টা প্রতিশোধের রসদ যোগাতে পারে।

এমনকি লেলিনগ্রাদের সঙ্গে একটি স্থল করিডোর স্থাপনের জন্য লিথুয়ানিয়ার মতো নেটোভুক্ত বাল্টিক রাষ্ট্রেও সেনা পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিতে পারেন তিনি।

পরিস্থিতি সেদিকে গড়ালে নেটোর সঙ্গে অত্যন্ত বিপজ্জনক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন এ সামরিক জোটের সনদের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটা জোটের সবার ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে।

সেটা জেনেও পুতিন ঝুঁকি নিতে পারেন, যদি তিনি মনে করেন যে এটাই তার নেতৃত্বকে বাঁচানোর একমাত্র উপায।

তাছাড়া ইউক্রেইনের যুদ্ধে পরাজিত হতে থাকলে তিনি আরও যুদ্ধের দিকে যেতে পারেন, সেটা গড়াতে পারে ইউরোপীয় যুদ্ধে।

বিশ্ব এখন জানে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ধার ধারেন না এই রুশ নেতা। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তিনি একই মনোভাব দেখাতে পারেন।

পুতিন এরইমধ্যে তার বাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রের বহর তৈরি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সত্যি সত্যি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে বসবেন- তেমন ধারণা বেশিরভাগ বিশ্লেষক করছেন না। তবে এটা মাথায় রাখতে হবে যে, বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে রাশিয়ার আইনে।

যুদ্ধ শুরুর পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে ঠিক, তবে সবকিছুর পরও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “বন্দুক এখন কথা বলছে, কিন্তু সংলাপের পথ সবসময খোলা থাকতে হবে।”

এবং সেই সংলাপ চলছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফোনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কূটনীতিকরা বলছেন, যারা আলোচনায় আসতে চান তাদের মস্কোর দিকে নেওয়া হচ্ছে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে রুশ এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারাও বেলারুশের সীমান্তে দুই দফা আলোচনায় বসেছেন, তাতে মানবিক সহায়তার করিডোর খোলার ঐকমত্য এসেছে, আরও বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের আছে।

সেটাকে হয়ত আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি বলা যাবে না। তবে আলোচনায় রাজি হয়ে পুতিন অন্তত কূটনৈতিক পথে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে মেনে নিযেেছন বলেই মনে হচ্ছে।

মূল প্রশ্ন হল-কূটনীতিকরা যাকে ‘অফ র্যাম্প’ বলছেন, পশ্চিমারা সেই সুযোগ দেবে কিনা। আমেরিকানরা কোনো বড় মহাসড়ক থেকে বের হয়ে যাওয়ার রাস্তাকে ‘অফ যাম্প’ বলে। এখানে চলমান সংঘাত থেকে দুই পক্ষের বেরিয়ে যাওয়ার একটি রাস্তার কথা বোঝাচ্ছেন কূটনীতিকরা।

তাদের বক্তব্যের সারমর্ম হল, কী করলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, সেটা প্রেসিডেন্ট পুতিন জানতে চাইবেন। বিশ্বাসযোগ্য একটি চুক্তিতে আসতে গেলে মুখ রক্ষা করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি পথ তার লাগবে।

ধরা যাক, যুদ্ধ চালাতে গিয়ে রাশিযা বাজে পরিস্থিতির মধ্যে পড়ল, নিষেধাজ্ঞারা কারণে মস্কোতে অস্থিরতা বেড়ে গেল, রুশ সৈন্যদের লাশ ফিরতে থাকায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাড়তে থাকল।

পুতিন তখন ভাবতে পারেন যে তিনি এমন কিছু মুখে পুরে ফেলেছেন, যেটা গেলা তার পক্ষে সম্ভব না। তিনি উপলব্ধি করকে পারেন যে যুদ্ধ জয় না করেই ফিরে যাওয়ার অপমানের চেয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তার নেতৃত্বের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর হবে।

দীর্ঘদিনের মিত্র চীন আপস করার জন্য মস্কোকে চাপ দিতে পারে। হুমকি দিতে পারে, পরিস্থিতি শান্ত না হলে তারা রাশিযার তেল ও গ্যাস কিনবে না।

অবস্থা সেরকম দাঁড়ালে পুতিনকে একটি উপায খুঁজতেই হবে।

অন্যদিকে যুদ্ধের বিপুল ধ্বংস দেখে ইউক্রেইন এই সিদ্ধান্তে আসতে পারে যে এভাবে প্রাণক্ষয়ের চেযে রাজনৈতিক সমঝোতা ভালো।

সেই সমঝোতার চিত্র এমন হতে পারে- ইউক্রেইন হয়ত ক্রিমিয়া ও দনবাসের ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব মেনে নিল। অন্যদিকে পুতিন হয়ত ইউক্রেনের স্বাধীনতা এবং ইউরোপের সঙ্গে তাদের মিত্রতার অধিকার মেনে নিলেন।

সবই যে খাপে খাপে মিলে যাবে এমন নয়, তবে রক্তক্ষযী সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ থেকে এরকম একটি দৃশ্পটের উদ্ভব হলে তা অযৌক্তিক হবে না।

আর ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই যদি যুদ্ধের বলি হন? ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরুর সময় তিনি বলেছিলেন, “আমরা যে কোনো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত।”

কিন্তু সেই ফলাফলে যদি তিনি ক্ষমতা হারান?

এখনও অনেকের কাছে এটা অকল্পনীয মনে হতে পারে, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশ্ব অনেকটা বদলেছে, ফলে এমন সম্ভাবনার কথাও অনেকের মাথায় থাকছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের ওযার স্টাডিজের এমিরেটাস অধ্যাপক লরেন্স ফ্রিডম্যান লিখেছেন, “এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভের মত মস্কোতেও পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা রযেেছ।”

ধরা যাক, বিপর্যয়কর ফল আসার পরও পুতিন হয়ত যুদ্ধ চালিযে গেলেন, হাজারো রুশ সৈন্য তাতে মারা গেল। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার কোমর ভেঙে দিল। পুতিন তার দেশে জনসমর্থন হারালেন। এমনকি বিপ্লবের হুমকিও তৈরি হতে থাকল।

বিরোধীদের দমনে পুতিন বরাবরই রাশিযার নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে এসেছেন।কিন্তু পরিস্থিতি ওইরকম হলে বিদ্রোহ দমন তার জন্যও কঠিন হয়ে যেতে পারে। রাশিযার সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজাত শ্রেণির অনেকে তার বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে।

পশ্চিমারা হয়ত স্পষ্ট বলে দিল, পুতিন যদি সরে দাঁড়ান এবং উদারপন্থি কোনো নেতা যদি রাশিয়ার নেতৃত্বে আসেন, কিছু নিষেধাজ্ঞা তারা তুলে নেবে এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করবে।

আবার ক্রেমলিনে একটি রক্তাক্ত অঅভ্যুত্থান দেখা যেতে পারে। তাতে পুতিন ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন।

এখনও সেরকম কিছু সম্ভব বলে হয়ত মনে হচ্ছে না। তবে পুতিনের কাছ থেকে যারা সুবিধা পেয়ে আসছেন, তারা যদি মনে করেন যে পুতিন আর তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন না, তাহলে ওই সম্ভাবনাও সত্যি হয়ে যেতে পরে।

এই বিকল্প চিত্রগুলো ঠিক এভাবেই ঘটতে হবে তেমন নয়। এক চিত্রকল্প দিয়ে শুরু হয়ে পরিস্থিতি অন্য চিত্রকল্পে গড়াতে পারে। একসঙ্গে একাধিক দৃশ্যপটও বাস্তব হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই সংঘাত চলতে থাকলে তার প্রভাবে পৃথিবী বদলে যাবে। আগের স্থিতাবস্থায হয়ত আর ফিরে যাবে না।