বাগেরহাটে সীমানা পিলার ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এখন সময়: বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০২২ ২১:৪৮:৫৩ pm

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের জমির পিলার ভাঙচুর, রড ও টিনের বেড়া লুটের অভিযোগ উঠেছে রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আঃ কুদ্দুস শিকদারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের মুজিববর্ষ মিলনায়তনে মোল্লাহাট উপজেলার গাফড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত সৈয়দ রইছুল ইসলাম এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মোল্লাহাট উপজেলার  ৫২ নম্বর গাফড়া মৌজায় আ. গফুরের  কাছ থেকে ৮৩ শতক এবং আদিলুদ্দি খা‘র কাছ থেকে ১৮ শতক জমি ক্রয় করে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। এই জমির মধ্যে গাফড়া এলাকার কুদ্দুস শিকদার ও তার ভাইদের কোনো প্রকার সত্ত্ব নেই। তারপরেও কুদ্দুস শিকদার ও তার ভাই বাদল শিকদার, মামুন শিকদার, চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর শিকদার, তুরান শিকদার, আজিজ শিকদার, আলিম শিকদার, মেজবা শিকদার, জুয়েল শিকদারসহ একটি কুচক্রী মহল আদিলুদ্দি খা‘র কাছ থেকে ক্রয়কৃত ১৮শতক জমি জোপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর তাদের ভোগদখলীয় বসতবাড়িতে তারা নির্মাণ কাজ শুরু করলে কুদ্দুস শিকদার তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে থানায় সালিশ বৈঠক হয়, সেখানে কুদ্দুস শিকদার তার মালিকানার পক্ষে কোনো ধরণের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে তারা ১ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট বরাবর ১৪৪ ধারায় নিষেষধাজ্ঞার আবেদন করেন। কুদ্দুস শিকদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নালিসী জমি  ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যাবধি বিবাদী সৈয়দ রইছুল ইসলাম ভোগ দখল করছেন। নালিসী জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদনকারী কুদ্দুস শিকদারের কোনো সত্ত্ব নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরপর তিন তারিখ হাজিরা না দেয়ায় চলতি বছরের ১৬ জুন মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে ২৫ জুন ওই জমিতে মালিকানা সাইনবোর্ডসহ পাকা পিলার ও বাঁশ খুটি দিয়ে টিনের বেড়া স্থাপন করি এবং নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি নেই। কুদ্দুস শিকদারে ভাই বাদল শিকদার আমাকে বেড়া খুলে নিতে বলে নানা রকম হুমকি-ধামকি দিয়ে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ জুন থানায় সালিশী বৈঠক বসে। সালিশীর মধ্যে তারা বেড়া খুলে নেওয়ার জন্য আমাকে শাসায় এবং মারপিট করার জন্য তেড়ে আসে। উপস্থিত লোকজন ঠেকিয়ে দিলে, তারা থানা থেকে বেরিয়ে এসে আমার জমির পাকা পিলার ভেঙে মালিকানা সাইনবোর্ড, টিরে বেড়া ও নির্মান কাজের জন্য আনা ৩০০ কেজি রড লুট করে নিয়ে যায়। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। এই অবস্থায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ক্রয়কৃত জমি ও জীবন রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত মতিয়ার রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বেড়া দেয়া ও কেটে ফেলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয়। ঘটনাস্থলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।