৭ বছর পর ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালু

এখন সময়: বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০২২ ২১:৪৭:৪৭ pm

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি: ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সাত বছর পর এক প্রসূতি মায়ের সিজার অপারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাশর্^বর্তী অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা গ্রামের জুয়েল শেখের স্ত্রী সিমলা বেগমের (২০) সিজার অপারেশনের মাধ্যমে তিন কেজি ওজনের একটি ফুটফুটে মেয়ে সন্তনের জন্ম হয়। 

সিজার অপারেশনের মধ্য দিয়ে এ হাসপাতালে আরও একটি সেবা চালু হওয়ায় হাসি ফুটেছে চিকিৎসক-নার্সসহ উপজেলার মানুষের মুখে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে সিমলা বেগম প্রসব যন্ত্রনায় কাতর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, বাচ্চার নড়াচড়া খুবই কম। এ ছাড়া প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হওয়ায় নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয়। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে প্রসূতির সিজার অপারেশনের ব্যবস্থা করে। এতে তার ফুটফুটে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।

সিজারিয়ান অপারেশনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরার নেতৃত্বে গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. সালিমা মেহের, অ্যানেসথেসিয়া ডা. আশিকুজ্জামান ও মেডিকলে কর্মকর্তা ডা. এলহাস নুসরাত লোপাসহ স¦াস্থ্য সহকারীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রসূতির স্বামী জুয়েল শেখ বলেন, ‘স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে সবাই বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাঁর সামর্থ না থাকায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তখন চিকিৎসকরা জানান, নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব নয়। এরপর ধীরে ধীরে তার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা হাসপাতালে সিজারের ব্যবস্থা করেন। সব কিছুই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমার স্ত্রী  ও নবজাতক মেয়ে সুস্থ আছে’।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রসূতি মায়েদের জন্য সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা খুবই সীমিত। তাছাড়া এখান থেকে জেলা সদরে হাসপাতালের দূরত্বও অনেক। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও যে, আমরা চালু করতে পেরেছি সেটাই আমাদের কাছে আনন্দের ব্যাপার। এই সেবা চলমান রাখতে আমি আমার জায়গা থেকে কাজ করে যাব। দীর্ঘদিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় ওটির মেশিন-যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হয়ে যায়। নিজস্ব উদ্যোগে কিছু মেশিন ও যন্ত্র ক্রয় করে সিজার অপারেশন কার্যক্রম চালু করেছি। এখন থেকে প্রত্যেক সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার প্রসূতিদের সিজারিয়ান অপারেশন করতে আর কোন সমস্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৬ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৪ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সালে মাঝে মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা চালু ছিল। সম্প্রতি চিকিৎসকসংকট না থাকায় প্রসূতির সিজার করা সম্ভব হয়েছে।