হাশিমপুর বাজারে এখন চুরি আতঙ্ক

এখন সময়: বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০২২ ২২:২৪:২৫ pm

মাসুম বিল্লাহ : যশোর সদরের হাশিমপুর বাজারে রয়েছে আধুনিক হাটচান্নি। যেখানে ধান ব্যবসায়ী, চাল ব্যবসায়ী, মোদী ব্যবসায়ী, শাকসবজি কাঁচামাল বিক্রেতাসহ রয়েছে বিপণী বিতান। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসলেও বর্তমান সময়েই বেড়েছে  চুরি আতঙ্ক। যত্রতত্র পণ্য রেখে ব্যবসা করতে ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কখনো উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের টাকা।  আবার কখনো সুযোগ বুঝে চুরি হচ্ছে বাজারে বিভিন্ন পণ্য। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাশিমপুর বাজারের ফাহিম স্টোরের মালিক জামাত আলীর দোকানে চুরি হয় পাঁচ ব্যারেল  ভোজ্য তেল।   পাঁচ জন নৈশ প্রহরি থাকা সত্তে¡ও এমন চুরি নিয়ে সংশয়ের  ভিতর রয়েছেন গোটা ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যে নৈশ প্রহরীদেরকে  ত্যাগ করে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই পালাক্রমে ডিউটি করছেন প্রতিরাতে। চোর ধরতে  দফায় দফায় চলছে মিটিং। আসছেন ক্যাম্পের আইসি ও থানায় দায়িত্বরত অফিসার।  তবুও এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি কেউ।  এর মধ্যে ৫ জন্য নৈশ প্রহরীর  নামে সন্দেহমূলক  মামলা করেছেন চুরি যাওয়া ফাহিম স্টোরের  মালিক  জামাত আলি। এ চুরির ঘটনায় কোন সুরাহা না  হওয়ায় বাজার কমিটিকে অযোগ্য বলেও মনে করছেন অনেক ব্যবসায়ী।  নতুন করে শক্তিশালি কমিটি চান তারা। এ ব্যাপারে বাজার কমিটির সূত্র জানায়,  নিয়মিত বাজার কমিটির পক্ষথেকে পাহারা দেয় নৈশপ্রহরীরা।   তবে দোকানিদের  বলা হয়েছে দোকানের বাইরে কোন প্রকার মালামাল রাখা নিষেধ। যদি কেউ রাখে তাহলে তার নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে।  তবে ব্যবসায়ীরা জানালেন, এরকম কোন লিখিত আদেশ বা নোটিশ বা মাইকিং  তাদের কাছে দেওয়া হয়নি। বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দীন বিশ্বাস বলেন,  থানায় মামলা হয়েছে এবং  তদন্তকারী কর্মকর্তা    কোতোয়ালি থানার এসআই মোঃ আলিম  দু -একদিন আগে এসেছিলেন। তিনি সবার কাছ থেকে শুনেছেন। ঘুরে ঘুরে দেখেছেন,  তবে কোন তেল উদ্ধার বা কাউকে আটকের ঘটনা ঘটেনি। ইছালী  ক্যাম্পের সহকারি ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন,  ঘটনাটি ঘটছে পূজার মধ্যে। থানায় মামলা দায়ের করেছে। সেহেতু এটি থানা দেখছেন।  আমাদের কাছে কোন লিখত অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা স্বউদ্যোগে আমাদের স্যার মোকাররম হোসেন  সেখানে গিয়েছিলেন এবং আমরাও চোর শনাক্ত বা চোর ধরার ব্যাপারে তৎপর আছি। 
এ ব্যাপারে বাজার কমিটির আরেকটি সূত্র জানান কত ব্যারেল তেল চুরি হয়েছে কিংবা আদৌ চুরি  হয়েছে কিনা তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। কমিটিকে ফাঁসানোর জন্য এমনটি করা হতে পারে বলে জানান তিনি। 
কমিটি অযোগ্য অভিযোগের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ রয়েছে, বাজারে যশোর সদরের  ভিতরে ঐতিহ্যবাহী হাশিমপুর বাজারে এখনো আনা হয়নি সিসি ক্যামেরার আওতায়।  জবাবদিহিতা করা হয়নি নৈশ প্রহরীদের  কাউকে । গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা সংশয় ও শংকার ভিতরে রয়েছে বলে জানান তারা।