বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক জনসভা, উচ্ছ্বসিত যশোর

এখন সময়: বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০২২ ২২:৫১:২১ pm

মিরাজুল কবীর টিটো: যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক জনসভা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি সব ধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। লাখলাখ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের দিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা সবকিছুর বন্দোবস্ত রেখেছেন। জনসভায় আসা মানুষদের পানির প্রয়োজন মেটাতে সাব-মার্সেবল ও পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থাও। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। প্রস্তুত থাকছে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট। জনসভা ঘিরে উচ্ছ্বসিত যশোর।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য দেয়ার ৫০ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার যশোর স্টেডিয়ামে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ঐতিহাসিক এই জনসভা ঘিরে আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। যশোর শহর জুড়ে এখন সাজসাজ রব। প্রচারে মুখরিত শহরসহ সারা জেলা। শহর জুড়ে রকমারি সাজ শোভা ছড়াচ্ছে। জনসভার বক্তব্য শোনার জন্য শহরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মাইক বসানো হয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের খণ্ডখণ্ড প্রচার মিছিলে মুখরিত শহর। মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে রং বেরংয়ের ফেস্টুন। তোরণ নির্মাণ করে শহরকে সাজানো হয়েছে ভিন্ন রূপে। এর পাশাপাশি শহরের সব প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে পড়েছে নতুন রংয়ের প্রলেপ। পৌরসভা শহরের রাস্তাঘাট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে ঝকঝকে করেছে।  ফলে শহরের চেহারা পাল্টে গেছে।

জনসভাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ৫ হাজারের বেশি পুলিশ। পোশাক পড়া ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। যশোর বাদেও বাইরের জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মাগুরা, বাগেরহাট, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ জেলা থেকে বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের আনা হয়েছে। পুলিশের সাথে র‌্যাবের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশ লাইনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। যেকোনো মুহূর্তে তারা যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারে তার  নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সভাস্থলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনো রুট দিয়ে প্রবেশ করবেন, কোথায় গাড়ির পার্কিং থাকবে, সে জন্য আগে থেকেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক পয়েন্টে পুলিশ ও ট্রাফিক সার্জেন্টরা থাকবেন। সভাশেষ করে যাতে সহজে মানুষজন বাড়ি পৌঁছাতে পারে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

র‌্যাব-৬র সার্জেন্ট মো. শহিদুল জানান, জনসভা ও আশপাশে ১৩০ জন র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে শহরের প্রত্যেক প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

জনসভাকে কেন্দ্র করে ৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দুইটি টিমে ১৫ জন ও সিভিল সার্জন অফিসের ৫ টিমে রয়েছে ৭৮ জন। এছাড়া হাসপাতালের অপারেশ থিয়েটার সুসজ্জিত ও প্রধানমন্ত্রীর রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী তিনজন রক্তদাতাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ও প্রধান সহকারী পারভীন আক্তার বানু জানান,  সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের নির্দেশনায় মঙ্গলবার ৫ টি মেডিকেল টিমের ৭৮ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল টিমের সদস্যরা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। 

সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে গঠন করা মেডিকেল টিমের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা উপলক্ষে দুটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জনসভাস্থলে অবস্থানকারী টিমে দায়িত্ব পালন করবেন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য, অর্থো-সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম, কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ নার্স রওশনারা, কার্ডিওগ্রাফার দীপক রায়, অফিস সহায়ক কামাল হোসেন ও গোলাম সরোয়ার। হাসপাতালে অবস্থানকারী টিমে থাকবেন সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডা. নূর কুতুবুল আলম, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. গৌতম কুমার ঘোষ, অর্থো-সার্জারী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোশাররফ হোসেন,  কার্ডিওলজিস্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  ডা. খন্দকার রফিকুজ্জামান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসরিন সুলতানা রিনা, নাসরিন আক্তার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পারভেজ মোশাররেফ হোসাইন, এসএসিএমও ফিরোজ আহম্মেদ, অফিস সহায়ক  আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মালেক।

তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান আরও জানান, অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু হাসনাত ও অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে অপারেশন থিয়েটার সুসজ্জিত রাখা হবে। এছাড়া প্যাথলজিস্ট ডা. আবুল হাসানকে প্রধানমন্ত্রীর রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী তিনজন রক্তদাতাকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১র নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেনারেটর থাকবে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনোরঞ্জণ সরকার জানান ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ডুবুরির ৪টি ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ জানান, জনসভাস্থলে আসা মানুষের জন্য চারটি সাব-মারসেবল ও ২০টি ট্যাংকি বসানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী ৮০টি টয়লেট।