অভয়নগরে খাস জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

এখন সময়: শুক্রবার, ২১ জুন , ২০২৪, ১০:৫৫:০১ পিএম

 অভয়নগর( যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তালতলার প্রভাবশালী আকরাম সরদাররা ও সাবেক কাউন্সিলর জাহানারা বেগম ২৬০ শতক সরকারি খাস জমি দখল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জবর দখলের বিষয়ে ওয়ার্ডবাসীরা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন  না। সোমবার দুপুরে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়ার্ডবাসীরা এ অভিযোগ করেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে ওয়ার্ডবাসীর পক্ষে আবু বায়েজীদ খান মিতুল বলেন, অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলার দুর্গাপুর মৌজায় খতিয়ান নম্বার ২৪,২৬,২৭,২৮,২৯,৩০,৩৩,৩৪,৩৬,৩৭,৩৯,৪০,৪১ দাগের ২৬০ শতাংশ খাস জমি রয়েছে। স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু প্রভাবশালী আকরাম সরদার গং ও সাবেক কাউন্সিলর জাহানারা বেগম অবৈধ দখল করে পাকা স্থাপনা, বালি ও পাথরের ব্যবসা, দুটি সমিলসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে রেখেছেন। যে কারণে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। লাভবান হচ্ছে ভূমিদস্যুচক্র। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এক সময় ওই জমিতে বাজার বসতো। যা তালতলা হাট নামে পরিচিত ছিল। কালের বিবর্তনে ভূমিদস্যুচক্রের চক্রান্তে হাটের ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং জবরদখল করে তারা নিজেদের নামে বেনামে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এই চক্রের সঙ্গে তৎকালীন সময়ে সরকারি নায়েব ও আমিনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জড়িত ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে। ওই একই মৌজায় ১০২ খতিয়ানে ২৩,২৫ ও ৫৩ দাগের ৯৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা হয়েছে। ৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী একের এক খতিয়ানে ৯৬ শতাংশ খাস জমি কিভাবে ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন ওর্য়াডবাসীরা। এছাড়াও একের এক খতিয়ান ২৯ দাগে ১২৪ শতাংশ জমি আকরাম সরদাররা আদালতের মাধ্যমে আদেশ নামার মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রাচীন ঐতিহ্য তালতলা হাট পুনরায় তার নিজস্ব স্থান ফিরে পাবে সেই দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালতলা বাজারের সরকারি জমি উদ্ধারে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গৃহিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, তালতলা বাজার সংলগ্ন ২০ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন, নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ২৪ তারিখে স্মারকলিপি পেশ, ২৬ তারিখের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ ও অবস্থান।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম রেজা ফরাজী, মহিলা কাউন্সিলর রাশিদা বেগম লিপি, ফরাজী তৌহিদুর রহমান লিটন, মির্জা তমাল, ডাক্তার মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ জাকির, সরদার রাজিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাবিব সরদার, মোহাম্মদ ডালিম সানা, সাব্বির ফরাজী, আবিদুর  রহমান, মোঃ মেহেদী হাসান প্রমুখ।

কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম রেজা ফরাজী বলেন, এলাকাবাসীরা মিলে আমরা সবাই এই সরকারি খাস জমি উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর স্বার্থে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ ব্যাপরে অভিযুক্ত আকরাম সরদার বলেন, আমি সব জমি দখল করে রাখিনি। সরকারি জমি মূলত যার পাশে থাকে সে ভোগ দখল করে খায়। আবার সরকারের যখন কাজে লাগে তখন ছেড়ে দিতে হয়। আমি যে টুকু দখল করেছি। সে জমি টুকু মাপ দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে লাল পতাকা দিয়েছে। আমার স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। এ বিষয়টি নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর জাহানার বেগমের মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, আমি কোনো লিখিত বক্তব্য পাইনি। তবে খাস জমির ব্যাপারে অবৈধ স্থাপনার মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য বলেছি। আমরা ওই জায়গায় মাপ দিয়েছি। তাদেরকে  সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। আমার দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যেটা আদালতে মামলা চলমান সেটা আমাদের ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানানো হয়েছে।