❒পরামর্শ বঞ্চিত লাখো কৃষক

মাঠে যান না যশোরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, অফিস থাকে তালাবদ্ধ

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই , ২০২৪, ০৩:১৩:২৭ পিএম

বিল্লাল হোসেন : যশোরে ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাঠ পরিদর্শনে না যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তারা অফিসেও ঠিকমতো বসছেন না বলেও কৃষকদের অভিযোগ। ফলে সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
চাষিদের দাবি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে দেখা মেলে না বললেই চলে। তাদের অনেককে ঠিকমতো চেনেন না তারা। অফিসও তালাবদ্ধ থাকে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব ও জবাবদিহিতা না থাকায় তারা দায়িত্বে অবহেলা করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তাদের ওপর বিভিন্ন ব্লকের দায়িত্ব ভাগ করা আছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, তারা মাঠে মাঠে গিয়ে চাষিদের ফসল উৎপাদনে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি তাদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় করবেন। কিন্তু কৃষকদের দাবি, বাস্তব চিত্র ভিন্ন; অধিকাংশ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠে যান না।
যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের কয়েকজন চাষি জানিয়েছেন, সবজির জন্য বিখ্যাত ইউনিয়নটি। এখানে বারো মাস সবজির আবাদ হয়।  তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সুনামের সাথে সবজি উৎপাদন করেন। কিন্তু সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কোনো পরামর্শই তারা পান না। মাঠে এসে কোনো চাষিকে পরামর্শ দেন না দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সবজি চাষে চাষিরা কোনো সমস্যায় পড়ছেন কি না সেটিরও তারা খোঁজখবর নেন না।
শাহবাজপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান ও শাহাজান আলী জানান, তাদের ব্লকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ৬ মাসে একদিনও মাঠে আসেননা। এমনকি তারা তাকে চেনেন না।
হৈবতপুর ইউনিয়নের অনেক চাষি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে। তারা বলেন, বৃষ্টিতে অনেক সবজি  ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপদের সময় কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠে আসেননি। এর আগে অনেক চাষির বেগুন ক্ষেত স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তখনও পরামর্শ দিতে কেউ মাঠে আসেননি।
চুড়ামনকাটি গ্রামের দুইজন সবজি চাষি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের এক কোণে কৃষি কর্মকর্তাদের অফিস। দিনের অধিকাংশ সময় অফিসের দরজা থাকে তালবদ্ধ। তারা মাঠেও যান না। আবার অফিসেও খুঁজে পাওয়া যায়না। দায়িত্ব ফেলে তারা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন।
ঝিকরগাছা উপজেলার হাঁড়িয়া নিমতলা গ্রামের ইউনুস আলী জানান, বিগত দিনে এক বিঘা ধান ক্ষেত কারেন্ট পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেলেও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাননি। তারা কোনো সময় মাঠে আসেন না। এলাকার প্রভাবশালী চাষিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।  
বাঘারপাড়া উপজেলার দহাকোলা গ্রামের রাজিবুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্বে আছেন শুনেছেন, কিন্তু মাঠে তাদের দেখা পাওয়া যায়না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এগুলো দেখভাল না করায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, মাঠে গিয়ে চাষিদের সার্বিক বিষয়ে যথাসাধ্য পরামর্শ দেয়ার জন্য যশোরের সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তাদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে কোনো চাষি অভিযোগ করেননি। তারপরেও বিষয়টি খোঁজ নেবেন। অভিযোগের সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।