নিজস্ব প্রতিবেদক: পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের মতো উন্নয়নের পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে অপূর্ব ভ্রাতত্বের বন্ধন চাইলেন ছেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নবাসী। যেখানে সমাজের সর্বস্তরের শান্তির পরশ ছড়িয়ে যাবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং ঐক্যের অটুট বন্ধনে হিন্দু-মুসলিম সমাজে এক ছাতার নিচে বসবাস করতে পারবে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও পিতার উন্নয়ন ফিরিয়ে আনা এবং শান্তি, সৌহার্দ্যময় সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলেন। তিনি বলেন, সমাজে আর প্রতিহিংসার আগুন জ¦লতে দেওয়া হবে না। সমাজের সকল স্তর থেকে প্রতিহিংসার আগুন চিরদিনের জন্য নিভিয়ে দেওয়া হবে। রোববার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণাকালে এভাবে অনিন্দ্য ইসলামের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন ইউনিয়নবাসী। সকাল থেকে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করনে তিনি। প্রথমে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া থেকে প্রচারণা শুরু করেন। সাহাপাড়ায় প্রবেশ করতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষ, শিশু বৃদ্ধ সকলেই ফুল ছিটিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে তাকে বরণ করেন। সাহাপাড়ার নারী অনিন্দ্য বাসিন্দারা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্দেশ্যে বলেন- আপনার পিতা আমাদের চলচলের রাস্তাটি তৈরি করেছিলেন। তিনি এই রাস্তায় ইট বসিয়েছিলেন। এরপর থেকে এই রাস্তার আরও কোন উন্নয়ন হয়নি। আমাদের চলাচলে মারাত্মক কষ্ট হয়। আমি আগামী দিনে সুযোগ পেলে রাস্তাটি সংস্কার করবেন। সাহাপাড়ায় অনুষ্ঠিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন, নরেন্দ্রপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতা মোহন লাল দাস এবং চাউলিয়া দাস পাড়ায় অনুষ্ঠিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতা শুকলাল দাস। তারা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার পিতা তরিকুল ইসলাম ভারতের বাবরি মসজিদ কান্ডে নিজেই পাহারাদার হয়ে আমাদের সুরক্ষা দিয়েছিলেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আপনার নির্দেশে আপনার দলের নেতার্কর্মীরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়ি ঘর সুরক্ষা দিয়েছে। যে কারণে কোন দুষ্কৃতিকারী আমাদের গায়ে ফুলের টোকা দেওয়ার সাহস পায়নি। আমাদের জন্য আপনার পিতার দোয়ার উন্মুক্ত ছিল। উনি কখনো হিন্দু মুসলিম দেখেননি। উনি আমাদের মন্দিরের উন্নয়ন করেছিলেন। আপনার পিতার মতো আগামী দিনে আপনার কাছে একই বিষয় প্রত্যাশা করি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাদের প্রত্যাশ পূরণে দৃঢ় অঙ্গীকার করে বলেন, আপনারা ( সনাতন ধর্মাবলম্বী) নিজেদের ধর্মী সংখ্যা লঘু ভাববেন না। আপনাদেও সংখ্যালঘু কথাটি ভুলে যেতে হবে, নিজেদের দুর্বল ভাবার কোন কারণ নেই। তরিকুল ইসলামের সন্তানের মতো এই মাটিতে আপনার সন্তানের সমান অধিকার রয়েছে। আপনাদের আশঙ্কার কোন কারণ নেই। বিগত আওয়ামী লীগ সময়ে ভোটার বিহীন জনপ্রতিনিধিরা আপনাদের দুর্বল এবং নতজানু করে শোষণ এবং শাসন করেছিল। আমি এবং আমার দল সব সময় আপনাদের পাশে আছে। আমার প্রয়াত পিতার সাথে আপনাদের নিবিড় সম্পর্ক ছিলো। তিনি বলেন, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে রাস্তা ঘাট, স্কুল মাদ্রাসা, মসজিদ মন্দিরের উন্নয়ন এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার পিতার নাম জড়িয়ে আছে। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে এমপি মন্ত্রী বানিয়ে আপনাদের উন্নয়নের সুযোগ করেছিলেন। আগামী দিনে আপনার আমাকে সেই সুযোগ দিলে পিতার উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনবো। এই অঞ্চলের অবহেলিত রাস্তা ঘাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মন্দিরের উন্নয়নের যাত্রা নতুন করে শুরু করবো। রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে বন্ধুর মতো আপনাদের পাশে ছিলাম আগামীতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ। ঘোড়াগাছা সাহাপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রচারণা শুরু করেন। এরপর তিনি শাখারিগাতি, হাটবিলা বাজার, চাউলিয়া পূর্ব পাড়া, চাউলিয়া দাস, গোপালপুর, বলরামপুর, এলাকায় নির্বাচনী পথ সভায় বক্তব্য রাখেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের কুশল বিনিময় করেন এবং আগামী দিনে তাদের জন্য বিএনপির কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মিঠুু, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।