জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপরাধ চিত্র উপস্থাপন

‘যশোরে খুন, নারী নির্যাতন ও গাড়ি চুরি বেড়েছে’

এখন সময়: শনিবার, ২ মার্চ , ২০২৪, ০৬:৫৮:১৬ পিএম

 

মিরাজুল কবীর টিটো: যশোরে খুন, নারী নির্যাতন ও গাড়ি চুড়ি বেড়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ৬টি খুন ও একই সংখ্যক নারী নির্যাতন, ২টি গাড়ি চুরি ও ২টি চোরাচালান সংঘটিত হয়। গত মাসে (জানুয়ারি) খুন হয় ৬টি, নারী নির্যাতন ৮টি, চুরি ৫টি ও ৩টি চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ অপরাধ চিত্র তুলে ধরেন  অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদা খাতুন রেখা। রোববার সকালে কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অ্যাপস) বেলাল হোসাইন বলেন, পারিবারিক সংঘাতের কারণে যশোরে খুন হচ্ছে। আয়েশা নামে এক শিশুকে খুন করেছে সৎ মা। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। অন্যান্য খুন হয়েছে টাকা পয়সা ভাগাভাগি নিয়ে ও বন্ধুর হাতে। খুনের সাথে জড়িত প্রত্যেককে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শীতের কারণে চুরি বেড়েছে। চুরির মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পেশাদার অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদক মামলায়ও হচ্ছে। সাক্ষীর অভাবে অনেকেই মাদক মামলা থেকে জামিন পেয়ে যায়। জানুয়ারি মাসে ৮টি মাদক মামলায় ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দুইজন পলাতক রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ৪৫ মামলায় ৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় ও ৩জন পলাতক রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজমুদারের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজের মাধ্যমে আমার কথা বলে টাকা দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে নম্বরটি যাচাই করতে হবে।

তিনি বলেন, সবজির দাম কমাতে ঝিকরগাছার মতো অন্যান্য উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ দোকান চালু করতে হবে। বাল্যবিয়ে রোধে ১০৯ হটলাইন নম্বরে কল দিতে হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যশোর উপপরিচালক আসলাম হোসেন বলেন, ১৩১ অভিযানে ৩৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত মামলা ১৫টি ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলা হয় ২৩টি। কোতয়ালী মডেল থানায় ৪৭টি অভিযানে ১৮টি, চৌগাছায় ১০টি অভিযানে ৩টি, শার্শায় ১৫টি অভিযানে ২টি, অভয়নগরে ৯টি অভিযানে ৩টি, বাঘারপাড়ায় ৪টি অভিযানে ২টি, বেনাপোল পোর্ট থানায় ২৭টি অভিযানে ৬টি, মণিরামপুরে  ১৩টি অভিযানে ২টি ও ঝিকরগাছায় ৬টি অভিযানে ২টি মামলা দায়ের হয়েছে।

যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু বলেন, হরিজনদের সাথে দ্বন্দ্ব নিরসন হয়েছে। ইজিবাইক, অটোরিক্সা ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোয় দড়াটানা থেকে হাসপাতাল রোডে যানজট হচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে যানজট নিরসন করা সম্ভব।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান মিঠু বলেন, কাউকে না কাউকে ম্যানেজ করে হাসপাতালের সামনে ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ কারণে যানজট হচ্ছে। যানজট নিরসনের প্রতিমাসে মোবাইল কোট পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই কথা বলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।

রাইটস যশোরে নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, হাসপাতালের ২০০ গজের মধ্যে কোনো ক্লিনিক নির্মাণ করা যাবে না বলে আইন আছে। বর্তমানের সেই আইন হয়তো হারিয়ে গেছে। একারণে হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক নির্মাণ হচ্ছে। তাদের পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপর ইজিবাইক ও অটোরিক্সা দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজট হচ্ছে।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক বলেন, এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বর্ষাকাল আসলে হয়তো বাড়তে পারে। যশোরে কাঁচা রস খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসলে বলা যাবে না তাদের কী হয়েছে।

যশোরে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, রমজানকে সামনে রেখে যদি দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে ছাড় দেয়া হবে না।

বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মশিউল আযম, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আবু নওশাদ, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম প্রমুখ।