নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের সার্বিক পরিস্থিতি ভাল রাখতে কাজ করতে চান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মতমিনিময় সভায় সাংবাদিকরা শহরের যানজট, ফুটপাত দখল, মহাসড়ক চলাচলের অনুপযোগী,অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
প্রেসক্লাব যশোরের যুগ্ম সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ বলেন- সকালে দুপুরে স্কুল বাস শহরের প্রবেশ করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ বাসগুলো যাতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে থামিয়ে শিক্ষার্থী উঠানো নামানো করে তাহলে যানজট হবে না। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন। প্রেসক্লাব যশোরের কোষাধ্যক্ষ জাহিদ আহমেদ লিটন বলেন- একসময় যশোরের মেলায় লটারীর টিকিট বিক্রি হতো। রাতে টিকিটের ড্র করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সম্প্রতি শেষ হওয়া জেলা প্রশাসন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে একই রকমভাবে লটারীর টিকিট বিক্রি হয়। রাতে টিকিটের ড্র করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এটা আগামীতে হবে কিনা জানতে চান।
গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন- স্কুল কলেজ চলাকালে শিক্ষার্থীরা কালেক্টরেট চত্বরে ঘোরাঘুরি করে আড্ডা দেয়।
প্রেসক্লাব যশোরের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন- নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। সাবেক ক্যাডাররা পলাতক থাকলেও তাদের কর্মীদের কাছে অস্ত্র আছে। তারা চুরি,ছিনতাই করছে।
সাংবাদিক সাজ্জাদ গনি খান রিমন বলেন, ফুটপাত অবৈধ ভাবে দখল হয়ে গেছে। সেই সাথে পৌরসভা অবৈধভাবে ইজিবাইক অটোরিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে। একারনে শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে শহরের ভিক্ষুকের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
সময় টিভির যশোর প্রতিনিধি জুয়েল মৃধা বলেন, ভোটার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ব্যালট পেপার চুরি না হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন রাত ৯টায় শহরে কাভার্ডভ্যান ট্রাক চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে।
সাংবাদিকদের বক্তব্য শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যশোরের সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করবো। উদ্দেশ্য হল যশোরের অবস্থান ভাল রাখবো। এজন্য আমার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। আমার দায়িত্ব যথাযথ পালন করবো। আমার কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক থাকবে। কাজ করতে গিয়ে কোন ভুল হলে সাংবাদিকরা সংশোধন করে দেবেন। অনেক কাজ আছে একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ গুলো সম্পন্ন করবো। সাংবাদিকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে।
এসময় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান কবীর বাবু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, গ্রামের কাগজের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এম আইউব, প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বিশিষ্ট লেখক বেনজিন খান, লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু প্রমুখ।