স্পন্দন ডেস্ক: লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরতে চাইলে একদিনের মধ্যেই তাকে ‘ওয়ান টাইম পাস’ দিতে পারার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
রোববার ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটার নিয়ম হচ্ছে যে, যখন পাসপোর্ট থাকে না বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বলে, তখন কেউ যদি আসতে চান, তাহলে তাকে আমরা ওয়ান টাইম পাস একটা দিয়ে দিই, একবার দেশে আসার জন্য।
“তো, এটাতে একদিন লাগে। কাজেই এটা উনি যদি আজকে বলেন যে, উনি আসবেন, আগামীকাল হয়ত আমরা এটা দিলে পরশুদিন প্লেনে উঠতে পারবেন। কোনো অসুবিধা নাই। এটা আমরা দিতে পারব।”
ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ ছেলে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ‘জটিলতা’ থাকার কথা শনিবার সকালে নিজেই তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
পরদিন রোববার দুপুরে ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করা তারেকের ফেরা এবং তার ফেইসবুক পোস্টের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
ওই পোস্টে তারেকের ‘স্পর্শকাতর’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ নিয়ে করা এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “স্ট্যাটাস স্পর্শকাতর বিষয়ৃ এটা উনি নিজে বলেছেন, পত্রিকায় এসেছে, সেটা আমরা সবাই দেখেছি।
লন্ডনে মা ও ছেলের দেখা হয় সাত বছর। এ বছর ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলে বিমানবন্দরে মাকে নিতে আসেন তারেক রহমান। ফাইল ছবি
লন্ডনে মা ও ছেলের দেখা হয় সাত বছর। এ বছর ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলে বিমানবন্দরে মাকে নিতে আসেন তারেক রহমান। ফাইল ছবি
“আমার জ্ঞান যে পর্যন্ত আমি শুধু এটুকু বলতে পারব যে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ নেই যে উনি আসতে পারবেন না।”
বিদেশি কোনো দেশের চাপ আছে কি না, এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, “একটা দেশের নাগরিক তার দেশে ফিরতে দেওয়া যাবে না বা দেওয়া হবে না এটাতো আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক লাগছে যে, বাংলাদেশ যদি তার নাগরিককে ফেরত আসতে দিতে চায়, আরেকটি দেশ সেটা কী করে নিষেধ করবে।”
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য আবার বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, তাকে বিদেশ নেওয়ার ব্যবস্থা তার দল করলে, সরকার সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
“খালেদা জিয়া খুব অসুস্থ। এই মুহূর্তে উনি আসলে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় নেই। যদি একটু উন্নতি হয় তাহলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেজন্য ব্যবস্থা দলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, আমরা সহায়তা করতেছি। যেটুকু যেখানে সহায়তা প্রয়োজন আমরা করব।”
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ বছর ৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গেলে দীর্ঘদিন পর মা ও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়। তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, জনপরিসরে সে আলোচনা রয়েছে। বিএনপির তরফেও বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, তিনি দেশের ফিরবেন।
৭৯ বছর বয়সি খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৩ নভেম্বর রাতে তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আমি রাত ২টা পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলাম। ডাক্তাররা ম্যাডামকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দিচ্ছেন।“
শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে তুলে ধরেন তিনি। পরের দুদিনে তার অবস্থা ‘একই পর্যায়ে’ থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ও দলের তরফে।