নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে এই মৌসুমে চারদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দু’দিনই এই তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন। এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ও শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে। শুক্রবার ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও শনিবার ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ামের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। দেশের ১৭ জেলায় এখন শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসায় যশোরে বিরাজ করছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ২০১৩ সালের এই জানুয়ারিতে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। কনকনে শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকুল। সূর্যের দেখা মিললেও ঠাণ্ডা বাতাসে হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। তাপমাত্রার সাথে বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এবং বাতাসের কারণে শীত অনুভূতও হচ্ছে খুব বেশি।
শুক্রবার ভোরও ছিল কুয়াশা ঘেরা। সকালে কুয়াশা ভেদ করে ওঠে সূর্য। সকালের ক্ষীণ আলো কুয়াশাকে ভেদ করে মাটি ছুঁয়ে নিলেও গায়ে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা সরে যায়। রোদের দেখা মেলে। কিন্তু থেকে যায় শীতের আবহ। ফলে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যহত হয়। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। খুব সকালে ক্ষেতে প্রতিদিনের মতো চাষিদের দেখা মেলেনি। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে। প্রতিদিন শহরের লালদীঘির পাড়ে শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বহর বসলেও, তা কমে এসেছে। বিকেলের দিকেও এখন শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে। আর সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হচ্ছে অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাস্তায় রিক্সা, অটো রিক্সা কম থাকায় অফিস থেকে ঘরে ফেরা মানুষগুলোর অনেককেই ধীর পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে আরও বাড়ে শীতের তীব্রতা।
চাঁচড়া এলাকার রিকশাচালক রহিম আলী বলেন, শীতে সকালে ও রাতে একেবারেই যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। বেলা একটু বাড়লে লোকজন কাজে বাইরে আসছে। কিন্তু যাত্রী কমে যাওয়ায় আয় রোজগারও কমেছে।
এছাড়া প্রচন্ড শীতের কারণে শুধু গরম কাপড়ে শীত মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামে শহরে সবখানে আগুনের ওম নেয়ার চেষ্টার দৃশ্য নজরে পড়ছে। আর শহরের রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল, অফিস-আদালতের বারান্দায় রাত কাটানো মানুষগুলো জুবুথুবু পড়ে থাকতে দেখা যায়। শীতের ‘যাঁতাকলে’ এই সব মানুষগুলোর এখন তাকিয়ে আছেন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের দিকে। প্রতিবারের মতো হয়তো সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় তাদের গায়ে চড়বে গরম কাপড়, কম্বল।