নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদ্যাপনে এনজিওগুলোকে চাঁদা নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা সমাজসেবা অফিস। যশোরের ৩৮টি এনজিও কাছে প্রায় সোয়া লাখ টাকার চাঁদার রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অফিস বলছে- দিবস উদযাপনের কোনো বরাদ্দ না থাকায় তারা উন্নয়ন সং¯'াগুলোর সহযোগিতা নি"েছন। অন্যদিকে, কয়েকটি এনজিও জানিয়েছে, দিবস উদযাপনের নামে তাদেরকে মাত্রাতিরিক্ত চাঁদা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ না থাকলে এনজিওগুলোকে চাঁদা দিতে বাধ্য করে অনুষ্ঠান করার দরকার কী?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২ জানুয়ারি ছিল জাতীয় সমাজসেবা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ ৩ জানুয়ারি শনিবার যশোরে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, প্রতিবন্ধীদের সহায়ক উপকরণ বিতরণ ও ভাতাবই প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা সমাজসেবা অফিস। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে গত ২৩ ডিসেম্বর সমাজসেবা কার্যালয়ে প্র¯'তি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেশকিছু এনজিও’র প্রতিনিধিও উপ¯ি'ত ছিলেন। এই সভা থেকে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদ্যাপনে যশোরের ৩৮ উন্নয়ন সং¯'ার কাছে বিভিন্ন অংকের চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, সভা থেকে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার ও আরআরএফ প্রত্যেক সং¯'াকে দশ হাজার; আর্স বাংলাদেশ, শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক যশোর ও বাঁচতে শেখা যশোরকে পাঁচ হাজার করে; ধারা যশোর, আইইডি যশোর, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, বুরো বাংলাদেশ, মুসলিম এইড, টিএমএসএস, উত্তরণ, আরডিআরএস, এসএসএস, পদক্ষেপ, প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সং¯'া উপশহর যশোর ও বারীনগর সমাজকল্যাণ সং¯'াকে তিন হাজার করে; উলাসী স"জনী সংঘ, আশা যশোর, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, রাইটস যশোর, বঞ্চিতা, জয়তী সোসাইটি, কারিতাস, সমাধান, উদ্দীপন, ঠাকুর ফাউন্ডেশন, সলেডারিটি সেন্টার, দি স্যালভেশন আর্মি, এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক, আমার যশোর, গাক যশোর ও পোফ যশোরকে দুই হাজার করে এবং মূক ও বধির সংঘ, যশোর অন্ধ সং¯'াকে এক হাজার করে চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী ৩৮ সং¯'ার কাছে চাঁদা ধরা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। সভার রেজুলেশনে এই টাকার অংক উল্লেখ করা হলেও কৌশলে বলা হয়েছে, সং¯'াগুলো সহযোগিতার জন্য এই টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, ওই সভার পর রেজুলেশন কপি ও মানি রিসিট সাথে নিয়ে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী উন্নয়ন সং¯'াগুলোর অফিসে অফিসে দিয়ে এসেছেন এবং ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
কয়েকটি উন্নয়ন সং¯'ার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যেহেতু তাদের কার্যক্রমের জন্য সমাজসেবা অফিসকে প্রয়োজন হয়। তাই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলা কঠিন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সমাজসেবা দপ্তরের কর্মসূচিতে তারা সহযোগিতা করেছেন। কিš' এবার যেভাবে এবং যেহারে টাকা নির্ধারণ ও গ্রহণ করা হ"েছ; আগে এমন হয়নি। আর এই দিবস পালনে সরকারি বরাদ্দের কথা কখনই কর্মকর্তারা বলেন না।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, যদি বরাদ্দ না থাকে তাহলে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠান করতে পারে। কিš' তা না করে এনজিওগুলোর কাছে চাঁদার স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে যশোর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ বলেন- জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপনে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। এজন্য এনজিওগুলোর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সভায় যারা ছিলেন, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন।
তবে তালিকার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘তালিকায় থাকলেও অনেকেই টাকা দেয় না। পাঁচশ, এক হাজার করে দেয়, কিš' এই তথ্য বিস্তারিত সাইফুল ইসলাম (সহকারী পরিচালক) বলতে পারবেন, তিনি এটি দেখছেন।’
আর সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই টাকা নেয়ার জন্য ডিপার্টমেন্টাল অনুমোদন আছে। তবে কেউ টাকা দিতে চায় না। তিন হাজার চাইলে পাঁচশ’ দেয়। আর অনুষ্ঠান একটু বড় করতে চাইলে অনেক খরচ পড়ে যায়। এছাড়া এর আগে আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে টাকা নেওয়া হয়নি, এই অনুষ্ঠানটি বড় করে করা হবে বলে।’