স্পন্দন ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে খুব দ্রুতই নির্বাচনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে’ এবং শোকের আবহের মধ্যেও তারা পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হতে চান। দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে দল ঘোষিত সাতদিনের শোকের কর্মসূচি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষেই পূর্ণদমে ভোটের মাঠে সক্রিয় হবেন দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিকে দল কেন্দ্রীয়ভাবে দৃষ্টি রাখছে। দল মনোনীত প্রার্থী ও মিত্রদের যেসব আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর যেখানে যেখানে দলের ‘স্বতন্ত্র’ বা ‘ব্রিদোহী’ প্রার্থী রয়েছেন; সেগুলোর বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক প্রতীক বরাদ্দ এবং নির্বাচনের মাঠে পুরোপুরি নামার আগে এবিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রচার-প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ এবং দলীয় ইশতেহার চূড়ান্তকরণের কাজও এগিয়ে রাখছে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তা বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশের পক্ষের যে শক্তি রয়েছে, তা বিএনপিকে বিজয়ী করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তার সঙ্গে ছারছিনার পীর মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইনের নেতৃত্ব্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ ও মাটির প্রতি আমাদের নেত্রীর যে ভালোবাসা, তা সবাইকে আলোড়িত করেছে। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন, কারাভোগ করেছেন এবং শেষদিন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে যখন বেগম জিয়ার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, সেসময় তার চলে যাওয়ায় দেশবাসী মর্মাহত হয়েছে। একারণে জানাজায় সবাই সমবেত হয়েছেন, চোখের অশ্রু ফেলেছেন। তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য কর্তব্য পালন করবেন, এই প্রত্যয় নিয়ে গেছেন দেশের মানুষ। আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব্বই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে- এটি মানুষ বিশ্বাস করে বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব। এদিকে, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাই। আমরা এত সংকীর্ণ নই যে, চেয়ারপারসনের মৃত্যুশোককে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করব। এই শক্তিকে আমরা জাতি বিনির্মাণে ব্যবহার করতে চাই। বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা ও বেদনা কখনোই পূরণ হবে না। তিনি গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবন, সন্তান ও পরিবার ত্যাগ করা এক বিশ্ব নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে আছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে খেতাব পেয়েছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে সব দলমতের ঊর্ধ্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়ার জানাজায় এত মানুষের ভালোবাসা দেখেছি। এতে বোঝা যায় দলের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। আমরা সত্যিকার অর্থে সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব কিনা, সেবিষয়ে শঙ্কিত। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আসন্ন নির্বাচনে তার মনোনয়নের বিষয়ে আইনি দিক তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, যেহেতু তিনি ফিজিক্যালি আর নেই, তার আইনগত সত্ত্বাও নেই। সুতরাং তার মনোনয়ন এমনিতেই বাতিল ঘোষিত হবে। বিকল্প প্রার্থী দেওয়া আছে, বাছাইয়ে টিকলে তারাই প্রার্থী হবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি বাবা-মা-ভাই হারিয়ে একা হয়ে গেছেন। তিনি আমাদের কাছে এখন আমানত। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে শক্ত মনোবলের অধিকারী হতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের নেতা তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যত শোকই থাকুক, জাতির স্বার্থে তাকে দৃঢ় থাকতে হবে।