Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

কেশবপুরে ৬০ বিলের পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদের চেষ্টা, এখনো ১২ গ্রাম প্লাবিত

এখন সময়: সোমবার, ৫ জানুয়ারি , ২০২৬, ০৭:৪৭:০৪ পিএম

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুর আসন্ন বোরো মৌসুমে উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৩ টি ইউনিয়নে ৬০ টি বিলের পানি শতাধিক সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি নিষ্কাশন চালিয়ে যাচ্ছে বিলের কৃষক ও ঘের মালিকরা। ভরা শীতের মৌসুমে এখনো ১২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে আছে। বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো জলাবদ্ধতার কারণে পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নিয়েছে। খুকশিয়া বিলের অববাহিকায় শ্রী-হরি নদীর নাব্যতা হারিয়েছে এবং সেই সাথে বিল এলাকার ব্রীজ কালভার্টের মুখ বন্ধ ও অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘেরের ভেড়ি তৈরি করায় বিলের পানি নদীতে নিষ্কাশনের বাঁধা পেয়ে বিলের পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। পানির চাপে ইতিমধ্যে ১০/১২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার মানুষে চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়েছে ডিঙ্গি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো। এতে করে ভেঙ্গে পড়েছে গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামো। জানাগেছে উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটী ও গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ২৭ বিলের বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ডায়েরখাল দিয়ে শ্রী-নদী নিষ্কাশন হয়ে থাকে। ৯০ দশকে পানি উন্নয়ন বোডের স্লুইস গেটের পাশাপাশি ২০০০ সালে বিল সমুহে এলাকার প্রভাবশালী ঘের মালিকরা ব্রীজ কালভার্টের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে মাছের ঘের ভেড়ি তৈরি করায় বর্তমান বিলের পানি শ্রী-হরি নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না। অপর দিকে শুষ্ক মৌসুমে স্যালো মেশিনের সাহায্যে ভুগর্ভস্থ পানি তুলে ঘেরে মাছের চাষ করার জন্য পানি ভরাট করে রাখে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে যেনতেন বৃষ্টি পাতের কারণে এলাকা প্লাবিত হয়ে লোকালয়ের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এলাকায় দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। যার কারণে বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, নারায়নপুর, কালিচরণপুর, কৃষ্ণনগর, সারুটিয়া, আড়ুয়া, শানতলা, ময়নাপুরসহ ১০/১২ টি গ্রামে ১২ মাসয়ী জলাবদ্ধতা থাকে। যার ফলে স্থানীয় জেলে ও মৎস্য জীবিরা তাদের পেশা বদল করে শহরে গিয়ে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। সরেজমিনে বাগডাঙ্গা মনোহরনগর কালিচরণপুর গ্রাম পরিদর্শন করে দেখাগেছে বাগডাঙ্গা, মনোহর নগর, নারায়নপুর, কালিচরণপুর, কৃষ্ণনগর, সারুটিয়া, আড়ুয়া, শানতলা, ময়নাপুরসহ ১০/১২ টি গ্রামের মানুষের বসতবাড়িতে পানি থৈ থৈ করছে। গত আষাঢ় শ্রাবণ মাস থেকে গ্রামে এখনো পানি রয়েছে। মাঝে মধ্যে পানি কিছুটা কম হলেও গত ডিসেম্বর মাস থেকে আবারও পানি প্রতিদিন বেড়ে গেছে। যার কারণে মানুষের পাশাপাশি গরু ছাগল হাঁস মুরগী নিয়ে বসতীরা পড়েছে মহা বিপাকে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানানো হলেও কতৃপক্ষ তা কোনো আমলে নিচ্ছে না। মনোহরনগর গ্রামের বিকাশ মন্ডল, নবন্ডল, অজিত কুমার মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তাদের বাড়িতে এখনো কমোর পানি। বিলের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের কারণে এখনো এলাকায় পানি বেড়েই চলেছে। বাগডাঙ্গা মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পারার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭/৮ মাস যাবত তারা পানি বন্দি হয়ে আছে। শিক্ষা কার্যক্র দারুণ ভাবে ব্যহত হচ্ছে। পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার দৈনিক স্পন্দনকে বলেন- গ্রামে অকাল জলাবদ্ধতার কারণে স্যাত সেতে পরিবেশের জন্য মানুষ ডেঙ্গু, পানি বাহিত রোগ,চুলকানি খোসপাঁচড়ার মতো চরমো রোগ যন্ত্রণায় ভুগছেন। মানুষের বসতবাড়িতে পানি বন্দি হয়ে আছে। তাদের যাতায়াতের জন্য ডিঙ্গি নৌকা, বাঁশের সাঁকো তাদের একমাত্র ভরসা। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে কোনো ফসলের আবাদ হয়না। সেই সাথে ভেঙ্গে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশন কমিটির আহবায়ক বাবার আলী গোলদার দৈনিক স্পন্দনকে বলেন শ্রীনদী সহ ৩ নদী ও সংযোগ খালের খনন কাজ চলছে। এতে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতার সমাধান হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে শ্রীনদী, হরিহর নদী, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদীর খননসহ ভবদাহ অঞ্চলের যে কোনো একটি নদীতে টিআরএম ব্যাবস্থা চালু না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহম্মেদ দৈনিক স্পন্দনকে বলেন ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার সমাধানের জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নদী খনন কাজ শুরু হয়েছে এতে আমাদের কিছু করার নেই।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)