Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒# বোরো আবাদ দুঃস্বপ্নই থেকে গেল ৬ গ্রামের মানুষের

ভবদহে মৎস্য ঘেরের বাঁধ ভেঙে দেড় হাজার বিঘা জমি প্লাবিত

এখন সময়: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি , ২০২৬, ১২:১৫:৩০ পিএম

নুরুল হক ও উৎপল বিশ্বাস, মণিরামপুর : চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের স্বপ্ন, দুঃস্বপ্নই থেকে গেল ভবদহের ৬ গ্রামের মানুষের। মণিরামপুরে ভবদহ সংলগ্ন সুজাতপুর বিলে ৪৮টি স্যালোমেশিন দিয়ে ঘের সেচের সময় বুধবার রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে পাশের কয়েকটি ঘের, দেড় হাজার বিঘা বোরো আবাদ ও বীজতলা প্লাবিত হয়। এতে মহাবিপাকে পড়েছে কৃষকরা। প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সুজাতপুর পল্লীমঙ্গল মৎস্য ঘেরের পানি সেচ দিয়ে বোরো আবাদের সিদ্ধান্ত নেয় ঘের পরিচালনা কমিটি। সে মোতাবেক প্রায় একমাস ধরে ৪০টি সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি সেচ দেয়া চলছিল যাতে এলাকার মানুষ বোরো ফসল চাষ করতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত পানির চাপে ওই ঘেরের দক্ষিণ পাশের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির মালিকদের প্রায় কয়েক শত বিঘা জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে কুলটিয়া গ্রামের স্বপন রায় জানান, তার তিন শতাধিক বিঘা জমির মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। একই গ্রামের তপন রায়ের মৎস্য ঘেরের উত্তর বেড়িবাঁধ ভেঙে ৮শ’ বিঘায় উৎপাদিত মাছ ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলি হলো মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর, হাটগাছা ও কুলটিয়া এবং অভয়নগর উপজেলার মশিয়াহাটী, বেদভিটা ও বলারাবাদ। এসব গ্রামে বসবাসরত প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের বাগানবাড়ি, পুকুর, মৎস্য ঘের এবং সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসী আরো জানায়, অভয়নগর উপজেলার ভাটা ব্যবসায়ী শ্যামল রায়সহ ১৯ জন যৌথ মালিকানায় মণিরামপুর উপজেলার ভবদহ সংলগ্ন সুজাতপুর বিলে দেড় হাজার বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় সাত বছর আগে নির্মান করেন পল্লী মঙ্গল মৎস্য খামার। কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তারা জমজমাট ব্যবসা করে আসছিলেন। বর্তমান শ্যামল রায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খামারটি এখনও মুলত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন কেশবপুর উপজেলার পাজিয়া এলাকার মোস্তাক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। মোস্তাক আহমেদ জানান, বোরো মৌসুমে ধান রোপনের জন্য তিনমাস ধরে ওই খামারে ৪৮ টি স্যালো মেশিন বসিয়ে সেচ চলছিল। বর্তমান সেচ প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু পানির প্রবল চাপে বুধবার গভীর রাতে খামারের বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যায়। ফলে পাশে স্বপন রায়েরসহ ছোট কয়েকটি ঘের এবং আশপাশের তিন শতাধীক বিঘা বোরো আবাদ ও শতাধীক বিঘার বীজতলা প্লাবিত হয়। কুলটিয়ার স্বপন রায় জানান, পানির চাপে তার মৎস্য খামারের বাঁধটিও ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। অপর ব্যবসায়ী তপন রায় জানান, পানির প্রবল চাপে তার খামারের উত্তরপাশের বেড়িবাঁধটি ভেঙে মাছ বেরিয়ে গেছে। পল্লী মঙ্গল মৎস্য খামারের বড় বেড়ি বাঁধটি ভেঙে আশপাশের বোরো আবাদ প্লাবিত হবার পর এখন নতুন করে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাটগাছা, মশিয়াহাটি, কুলটিয়া গ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও ফসলের ক্ষেত প্লাবিত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। বোরো আবাদ প্লাবিত হওয়ায় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্তনা দেন। তবে পল্লী মঙ্গল মৎস্য খামারের বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় কয়েককোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, বেড়িবাঁধটি পুনরায় সংস্কারের চেষ্টা চলছে। এ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গতকাল বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ ব্যাপারে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি অভয়নগর শাখার আইন বিষয়ক স¤পাদক অনিল বিশ্বাস জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষে মৎস্য বিভাগ, কৃষি বিভাগসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর জন্য আশু সহযোগিতা প্রয়োজন। তাছাড়া ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ অবিলম্বে সংস্কার না হলে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, এ ব্যাপারে করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান, মৎস্য অফিসার সেলিম রেজা ও কৃষি অফিসার মাহমুদা আকতারকে পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)