প্রেসবিজ্ঞপ্তি : কতশত রকমের যে সুস্বাদু পিঠাপুলি যেন তার ইয়ত্তা নেই। সুঘ্রাণ ছড়ানো পিঠে সাজানো স্টল ঘিরে হাজার হাজার ক্রেতা দর্শনার্থীর ভিড়। ঘুরে ঘুরে কেউ স্টল দেখছেন। রকমারি সব পিঠের দাম জেনে নিয়ে পছন্দসই পিঠে কিনে সেখানে দাঁড়িয়েই খেয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার পিঠে কিনে প্যাকেট ভর্তি করে ব্যাগে ঝুলিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত এমন দৃশ্য, যশোর শহরের আরএন রোড ক্রীড়াচক্র মাঠে ব্রাদার টিটোস হোম আয়োজিত বিটিএইচ পিঠা উৎসবের। আয়োজক সূত্র জানায়, উৎসব স্টলে পরিপাটি করে সাজানো একেকটি পিঠা তৈরির পেছনে আছে মা ও সন্তানের যৌথ শ্রমের গল্প। বাড়ির হেঁেশলে মায়েদের সাথে হাতে হাত লাগিয়ে রকমারি সব পিঠে গড়েছে শিশুরা। কারণ, উৎসবে পিঠা প্রদর্শনের মাধ্যমে বেস্ট পিঠা মেকার পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রধান শর্তই ছিল- সন্তানদের সাথে নিয়ে দেশীয় পদের পিঠা তৈরি করবেন মায়েরা। এদিন দুপুর আড়াই উদ্বোধন হয় হরেক রকমের সব পিঠাপুলি সমাহার নিয়ে বর্ণাঢ্য উৎসব। উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘খুব কম বাচ্চাই পিঠা বোঝে। আমাদের বাচ্চাদের পিঠা চেনাই’। উদ্বোধনের পর মায়ের সাথে বাড়িতে পিঠা তৈরি করা, পিঠে নিয়ে চলে বেচাবিক্রি। সময় যত গড়াতে থাকে ততই জমজমাট হতে থাকে উৎসব। সরেজমিন উৎসবের ৫০টি স্টল ঘুরে দেখা যায়, বাহারি সব নকশা ও শৈলির পিঠা টেবিল জুড়ে সাজানো। শহুরে মেলায় গ্রামীণ পিঠে-পুলির সুঘাণে চারপাশে মৌ মৌ করছে। বহু ধরণের তেলে ভাজা পিঠেতে যেন সয়লাব ছিল উৎসব। এ ছাড়াও ফুল পিঠা, রসের পিঠা, ভেজিটেবল রোল, চিকেন পুলি, মাছ পিঠা, নুডলস পিঠা, ক্ষীরের পাটিসাপটা পিঠা, ভাপাপুলি, দুধ পাকান, ঝাল ননিয়া পিঠা, পাকসাজ পিঠা, মালপোয়া, ভাজাপুলি, সেমাইপিঠা, নিমকি পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, বিস্কুট পিঠা, চন্দ্রচূড়া ছাড়াও শতাধিক পিঠে বানিয়ে নিয়ে এসেছিল মা ও শিশুরা। বাড়িতে তৈরি করে আনা ছাড়াও উৎসবস্থলে চুলায় কড়ায় পেতে গরম তেলে ভেজে ক্রেতাদের গরম গরম পিঠে সরবরাহ করা হয়। এদিকে, উৎসবে আরেকটি আকর্ষণ ছিল খেজুরের রস। মাটির ভাড়ে রাখা খেজুরের রস গ্লাস প্রতি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে আয়োজকরা। উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পিঠে ছাড়াও স্টলগুলোয় বিক্রি হচ্ছে হাঁসের মাংস ও ছিটা রুটি। এ ছাড়া ব্যতিক্রমী পিঠার মধ্যে ছিলÑ লবঙ্গ লতিকা পিঠা, দুধ খেজুরের পিঠা ও মুগডালের পিঠা। আরো ছিলÑ নকশি পিঠা, গোলাপ পিঠা, গাজরের লাডডু, কলিজা, সিংগাড়া মাছের টিকিয়া, কিমা পুলি, ডিম সুন্দরী, মেরাং কুকিজ, বরফি,পুডিং ও ছানার জিলাপি। উৎসবের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের পর পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আরএন রোড ক্রীড়াচক্রের সভাপতি গোলাম কাদের ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বিপ্লব, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু, আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ উল্লাহ খান বিপ্লব ও আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আয়াজ উদ্দীন রিপন। বিচারিক দায়িত্ব পালন করে যশোরের শ্রেষ্ঠ পিঠা শিল্প প্রতিষ্ঠান তারিফ কিচেন। এছাড়াও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পিঠা বিশেষজ্ঞ সুরাইয়া খাতুন ও সালমা জাহান এবং বিটিএইচ প্রতিনিধি মিথিলা জাহান। বেস্ট স্টল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ওমর জুওরাইরিয়া। দ্বিতীয় রানার্সআপও হয়েছে ওমর জুওরাইরিয়া ও প্রথম রানার্স আপ সাইরান গালিব। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাসনিম জেমি।