নূরুল হক, মণিরামপুর: মণিরামপুরে দুইটি পোষা বিড়ালকে মারপিটে আহত করার অভিযোগ এনে শনিবার দুপুরে জিল্লুর রহমান নামে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করেন। অবশ্য এ সময় পুলিশ আহত বিড়াল দুইটিকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে (পশু হাসপাতাল) প্রেরণ করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে শনিবার প্রাণিসম্পদ অফিসে কেউ না থাকায় বিনা চিকিৎসায় একটির মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমানের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার বৃষ্টি (অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী) দেড় বছর আগে বাড়িতে দুইটি বিড়াল পালন করে। সব সময় বৃষ্টি বিড়াল দুইটিকে দেখভাল করেন। বৃষ্টির পিতা জানান, শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে লালচে এবং সাদা রংয়ের বিড়াল দুইটি প্রতিবেশী শামছুর রহমানের বাড়িতে যায়। এ সময় শামছুর রহমানের ছেলে হীরা লাঠি দিয়ে বিড়াল দুইটিকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে বিড়াল দুটি আহত হয়। এ সময় বৃষ্টি বিড়াল দুইটিকে উদ্ধারের পর বাড়িতে এনে পরিচর্যা করেন। কিন্তু ক্রমেই অবস্থার অবনতি হলে বৃষ্টি এবং তার মা রেকসোনা খাতুন বিড়াল দুুইটি নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে থানায় যান। এ সময় পুলিশ বিড়াল দুইটিকে চিকিৎসার জন্য প্রাণীসম্পদ অফিসে নিয়ে যাবার জন্য পরামর্শ দেন। বৃষ্টির পিতা জিল্লুর রহমান জানান, বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। অবশ্য এ সময় লালচে বিড়ালটির মৃত্যু হয়। পরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ অনুযায়ী ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনে অপর সাদা বিড়ালটিকে খাওয়ানো হচ্ছে। এ ঘটনায় বৃষ্টির পিতা জিল্লুর রহমান বাদি হয়ে শামছুর রহমানের ছেলে হীরার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। সুরাইয়া আক্তার বৃষ্টি দাবি করেন তার শখের বিড়াল হত্যাকারীর প্রকৃত শাস্তি। তবে লাটি দিয়ে মারপিট করার অভিযোগ অস্বীকার করেন হীরা। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।